গাজীপুরের গাছা থানাধীন ডেগেরচালা এলাকায় গার্মেন্টস কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গাছা থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাছা থানাধীন ডেগেরচালা ফকির মার্কেট সংলগ্ন ইন্ডোসর গার্মেন্টস কারখানার সামনে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ রামদা, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংঘর্ষের ভিডিও ও সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলাকারীদের আঘাতে সাংবাদিক মোঃ শরীফ ওমর টুটুল রক্তাক্ত আহত হন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় গাছা থানা পুলিশ অভিযানে নামে। এসি (গাছা জোন) ও গাছা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) যৌথ নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—
মোঃ সাজ্জাত (২০), পিতা মোঃ পুতুল মিয়া (আঃ কুদ্দুস), স্থায়ী ঠিকানা নেত্রকোনার আটপাড়া থানার বাহাদুরপুর; বর্তমানে গাজীপুরের গাছা থানাধীন পলাগাছ এলাকায় বসবাস করেন।
মোঃ আলমগীর (৪০), পিতা মোনতাজ মিয়া, স্থায়ী ঠিকানা গাজীপুরের গাছা থানাধীন জাঝর এলাকার ৩২ নম্বর ওয়ার্ড।
মোঃ রঞ্জু আহম্মেদ (৩৯), পিতা মোঃ মালেক মিয়া (ড্রাইভার মালেক), স্থায়ী ঠিকানা গাজীপুরের গাছা থানাধীন জাঝর পশ্চিমপাড়া এলাকায়।
গাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের পেছনে থাকা মূল ইন্ধনদাতা ও জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং এ ধরনের সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।