গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও পথ আটকে তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কথিত ‘টর্চার সেল’ থেকে রক্তমাখা ও ছেঁড়া পোশাক, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের দাবি করেছে স্থানীয়রা। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টেপিরবাড়ী এলাকার ওয়াজউদ্দিনের ছেলে খোকন মিয়া ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে কিংবা পথরোধ করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে একটি বাড়িতে নিয়ে জিম্মি করতেন। সেখানে মারধর ও নির্যাতনের পর মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি মাওনা চৌরাস্তার মোবাইল ব্যবসায়ী নাসিরকে মারধর করে ওই বাড়িতে নিয়ে নির্যাতন ও তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরে তার বন্ধুদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নাসির শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
এরপর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িটির ওপর নজর রাখছিলেন। বুধবার দুপুরে সন্দেহজনকভাবে কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে বাড়িটিতে প্রবেশ করতে দেখে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘেরাও করেন। এ সময় খোকন মিয়া পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রীসহ চারজনকে আটক করা হয়।
পরে উত্তেজিত জনতা আটক ব্যক্তিদের মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। গণপিটুনিতে গুরুতর আহত একজনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি দামি মোবাইল ফোন, রক্তমাখা ও ছেঁড়া পোশাক, প্লাস্টিকের পাইপ, বৈদ্যুতিক তার, একাধিক মানিব্যাগ, মোবাইলের খালি কভার ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেন।
স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ থাকলেও নাসিরের ঘটনার পর সেখানে কথিত নির্যাতনকেন্দ্র থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে অভিযোগ ওঠা খোকন মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী, নির্যাতনের অভিযোগ এবং মুক্তিপণের বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।