• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

আগামীকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট, লড়াইয়ে ফখরুল-অলি

ডেস্ক রিপোর্ট / ২০ Time View
Update : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :

দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)। জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ ভোট চলবে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় এবারের ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা কীভাবে ভোট দেবেন, ব্যালট গ্রহণ ও পূরণ করবেন এবং ভোট গণনার পর কীভাবে ফল ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

ইসি সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট হবে।

২০ আগস্ট দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরুর আগে নির্বাচনকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে অবহিত করবেন। এরপর শুরু হবে ভোটগ্রহণ।

আখতার আহমেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে। এর একটি মুড়ি অংশ এবং অন্যটি মূল ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে ভোটদাতার ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম ও বিভক্তি নম্বর উল্লেখ থাকবে। নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যকে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। এরপর তার হাতে তুলে দেওয়া হবে ব্যালট পেপার।

মূল ব্যালটের ডান পাশে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যাক্ষর অনুযায়ী ছাপানো থাকবে। প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্য নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন।

ভোট দেওয়া শেষ হলে ব্যালট পেপার নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে ব্যালট গণনা।

ইসি সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। গণনার সময় কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ হয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে, তার হিসাব করা হবে।

এরপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কতটি বৈধ ভোট পেয়েছেন, তা নির্ধারণ করা হবে। সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচনকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনে ফিরে নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিপরীতে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি। ফলে ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সঙ্গে বিরোধী জোটের প্রার্থীর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।


More News Of This Category
bdit.com.bd