• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন

হাম নিয়ন্ত্রণে টিকা ছাড়া বিকল্প নেই: মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ২১ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

হাম রোগ প্রতিরোধে টিকার বাইরে কোনো বিকল্প কার্যকর চিকিৎসা নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানিয়েছেন, সরকার দেশজুড়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করছে এবং যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে।

বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন কর্মসূচি, টিকাদান পরিস্থিতি এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে হামের টিকা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। টিকার বিকল্প কোনো চিকিৎসা না থাকায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে টিকাদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দেশের টিকাদান লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, এখন বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে সেই শিশুদের দিকে, যারা এখনো টিকা নেয়নি। এসব শিশুকে চিহ্নিত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকবে বলেও তিনি জানান।

সভায় তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। যেসব এলাকায় টিকা গ্রহণে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে শিশুদের ডেকে এনে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টিকা দেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে কিছু সময় লাগে, তাই এ সময় পর্যন্ত সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী দাবি করেন, হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা, আইসিইউ সুবিধা এবং চিকিৎসকরা প্রস্তুত রয়েছেন। তবে এ সময় জনসাধারণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

হামের টিকার সংকট নিয়ে তদন্ত হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তের বিষয়টি একেবারে বাতিল করা হয়নি। তবে বর্তমানে সংকট মোকাবিলাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সংকট কাটিয়ে ওঠার পর কেন্দ্রীয়ভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তার মতে, এখনই তদন্তে মনোযোগ দিলে কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও সভায় কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকা নেই, তাই জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতাই প্রধান প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান, যাতে রোগীর চাপ বাড়লেও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত না হয়।

সভায় আরও জানানো হয়, চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে দিয়েছে। অনুষ্ঠানে চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


More News Of This Category
bdit.com.bd