মোঃ ইব্রাহীম খলিল, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউতকোনা এলাকায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী রহস্য আছে, তা জানতে সর্বাত্মক তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ফোরকান নিজের পরকীয়া লুকাতে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। নিজের স্ত্রীকে ফাঁসাতে তার নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২টি সাধারণ ডায়েরিও করেন!ফোরকানের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, ফোরকান পেশায় ট্রাকচালক ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি আগে থেকেই মাদকাসক্ত। ট্রাক চালানোর জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরতে হয় তাকে। এভাবে কোথাও পরকীয়া জড়িয়ে পড়েন অথবা গোপনে বিয়েও করে থাকতে পারেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফোরকান মিয়া পেশায় একজন ব্যক্তিগত গাড়িচালক। অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার রাতে পরিকল্পিতভাবে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করেন তিনি। এরপর গভীর রাতে স্ত্রী শারমিনকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন। পরে পাশের ঘরে থাকা তিন শিশুসন্তান ও শ্যালককেও একইভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ড শেষে রাতেই ফোরকান বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ জানায়, পালানোর পর তিনি নিজেই মুঠোফোনে স্বজনদের এই খুনের খবর দেন। পরে স্বজনরা পুলিশকে জানালে ভোরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো মর্গে পাঠানো হচ্ছে।’ হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ঠিক কী কারণে ফোরকান এমন চরম পথ বেছে নিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ফোরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।