নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন কুনিয়া তারগাছ এলাকায় অবস্থিত “জমিলা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ফার্টিলিটি (বন্ধ্যাত্ব) কেয়ার সেন্টার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এ এক নারী চিকিৎসকের চেম্বারে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ডাঃ আফরোজা আক্তার (ডলি) গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা হলেন—১) মোঃ আশিকুর রহমান ইমন (২৬), ২) মোঃ রাজু আহম্মেদ শাহীন (৪০), ৩) মোসাঃ কামরুন্নাহার মুন্নি (৩৫), ৪) মোসাঃ লামিয়া শারমিন তানহা (২৫) এবং তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন। ভুক্তভোগী চিকিৎসক জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে অভিযুক্তরা রোগী হিসেবে সিরিয়াল নেন। কিন্তু তিনি জরুরি কাজে ঢাকায় থাকায় সেদিন চিকিৎসা দিতে না পারায় অভিযুক্তরা হাসপাতালের স্টাফদের সাথে অশোভন আচরণ ও হুমকি প্রদান করে।
পরবর্তীতে গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে ৪নং বিবাদী চিকিৎসা নিতে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করেন। কিন্তু চিকিৎসা শেষে তিনি ও তার স্বজনরা হাসপাতালের স্টাফদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং মোবাইল ফোনে অন্যদের ডেকে আনে। অভিযোগে বলা হয়, একইদিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ হয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে। তারা ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লোহার রড, পাইপ ও লাঠিশোটা দিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। এ সময় ১নং, ২নং ও ৩নং বিবাদী হাসপাতালের দুই নার্স আছমা ও সাবরিনাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে আহত করে এবং চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করে। তারা চিকিৎসককে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চিকিৎসক প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
এক পর্যায়ে ১নং বিবাদী ধারালো ছুরি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। আহত অবস্থায় তিনি মেঝেতে পড়ে গেলে ২নং বিবাদী চেম্বারের ড্রয়ার থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং ৩নং বিবাদী তার গলায় থাকা আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গেছে। এ বিষয়ে গাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।