ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে ১৮ মাস জিম্মি রেখে নির্যাতন এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে ২৭ লাখ ৮০ হাজার ১০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চক্রের মূল হোতাসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পটুয়াখালী বিজ্ঞ মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর জি আর ২৬০/২০২৪। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠী গ্রামের মো. রহিম মোল্লার ছেলে মো. সোহেল রানা (২৫) এই মানব পাচার চক্রের শিকার হন। অভিযুক্তরা তাকে অবৈধ পথে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রায় ১৮ মাস আটকে রেখে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে জিম্মি করে বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে মোট ২৭ লাখ ৮০ হাজার ১০০ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেভাবে আদায় করা হয় টাকা
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেন। এসব লেনদেনে মেসার্স ঝুমা ফার্মেসী, মেসার্স রায়হান এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স রিফাত ট্রেডার্সের ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন ভূঁইয়ার স্ত্রী মাহফুজা বেগম এসব ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন ও গ্রহণ করেন।
মামলায় যাদের নাম রয়েছে
মামলার এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—মোহাম্মদ মিলন ভূঁইয়া, পিতা মৃত হাবিব উদ্দিন ভূঁইয়া, সাং সুলতানপুর, থানা পলাশ, জেলা নরসিংদী; মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বেপারী ওরফে সোলেমান, সাং নেয়ামতপুর, শরীয়তপুর। অভিযোগে নুরুজ্জামান বেপারীকে চক্রটির নেতৃত্বদানকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় মাহফুজা বেগম, মোসা. রিনা বেগমসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।
ভুক্তভোগীকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাচার, জিম্মি করে নির্যাতন এবং পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি মামলার মাধ্যমে আদালতের নজরে আনা হয়েছে।