ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে শ্রমিকরা আবারও মৌচাক এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরের খাবারের বিরতির পর কাশিমপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে কোনাবাড়ী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরাও যোগ দেন।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে কাশিমপুরের পাশাপাশি জরুন এলাকার রিপন গ্রুপ, ইসলাম গ্রুপ, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ, কটন ক্লাব, মন্ডল গ্রুপ ও মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেডসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা অবিলম্বে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান।
পরে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে কোনাবাড়ী বিসিক শিল্প এলাকায় পৌঁছান। সেখানে তাঁরা অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকার অধিকাংশ কারখানা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষণা করে।
এরপর শ্রমিকরা একত্র হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী অংশ অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশের ধাওয়ায় শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের গলি ও এলাকায় সরে যান।
তবে কিছুক্ষণ পর শ্রমিকরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করে মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে শ্রমিকরা আবারও মৌচাক এলাকায় সংঘবদ্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
তিনি আরও জানান, মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং পরিস্থিতি থমথমে।