গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এর আগে, শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাকসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা প্রথমে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শত শত শ্রমিক তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এ সময় শ্রমিকরা ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একাংশ মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে দেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর থেকে বোর্ডঘর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। আন্দোলনের প্রভাবে আশপাশের অন্তত ১৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও তাদের বেতন সে অনুযায়ী বাড়েনি। বর্তমান বেতনে সংসারের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।
পরে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।