ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘটা করে কর্মসূচি ঘোষণা করলেও বাস্তবে রাজপথে দেখা মেলেনি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে দলটির ভেরিফাইড পেজ ও বিভিন্ন নেতার প্রোফাইলে পোস্টের মাধ্যমে নানা কর্মসূচির কথা জানানো হয়। তবে মাঠের চিত্র ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ (বর্তমান নাম শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ছিল সুনসান নীরবতা। ফেসবুকে শেয়ার করা পোস্টে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা নিবেদনের কথা থাকলেও সেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ছাড়া কোনো সাংগঠনিক জমায়েত চোখে পড়েনি।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকার ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা করিম মিয়া বলেন, ‘আগে দেখতাম এই দিনে মানুষের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা থাকত না। মাইক বাজত, নেতারা আসত। আজ সকাল থেইকা দেহি পুলিশ আর সাধারণ কিছু মানুষ ছাড়া কেউ নাই। বড় কোনো মিছিল বা ফুল দিতে কাউরে দেহি নাই।’
একই চিত্র দেখা গেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিত্যক্ত আ’লীগ অফিসের পাশের একটি দোকানের কর্মচারী বলেন, ‘ফেসবুকে দেখলাম আজ অনেক প্রোগ্রাম। কিন্তু আসলে দেখি সব ফাঁকা। একসময়ে মাঠের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল যে এখন শুধু ইন্টারনেটে, সেটা আজ বুঝা যাইতেছে।’
উল্লেখ্য, চব্বিশের পতনের পর থেকেই আওয়ামী লীগ তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে অনেকটা ‘অনলাইন কেন্দ্রিক’ করে ফেলেছে। দলটির তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত অনেক নেতাই এখন কেবল ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমেই নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুজিবনগর দিবসের মতো একটি ঐতিহাসিক দিনে আওয়ামী লীগের এমন ‘ফেসবুক সর্বস্ব’ উপস্থিতি দলটির সাংগঠনিক সংকট ও বর্তমান রাজনৈতিক স্থবিরতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।