গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে পুলিশের ওপর বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ করে হ্যান্ডক্যাপ পরা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। তবে ছিনিয়ে নেওয়া পাঁচ মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাহুলকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আবুল হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল (৩০), মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৪), আহাম্মদ আলীর ছেলে নাইম মিয়া (২৮), আনিছুর রহমানের ছেলে সোহাগ (৩০) এবং আব্দুল বারেকের ছেলে আদর আলী (২১)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন জেলা থেকে এসে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে টঙ্গী পূর্ব থানার একটি দল কেরানীরটেক বস্তি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয়ভাবে মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রানী বেগমের ছেলে রাহুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, রাহুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর রাহুলকে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন হয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় একদল ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। এ সময় হামলাকারীরা রেললাইনের পাথর কুড়িয়ে পুলিশের দিকে একের পর এক নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের কনস্টেবল মাসুদ আহত হন।
পুলিশের দাবি, হামলার একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা হ্যান্ডক্যাপ পরা অবস্থায় রাহুলকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে গ্রেপ্তারে রাতভর অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, পাঁচটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রাহুলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার সময় মাদক ব্যবসায়ীরা রেললাইনের পাথর কুড়িয়ে পেছন থেকে পুলিশের ওপর নিক্ষেপ করে। এতে কনস্টেবল মাসুদ আহত হন। একপর্যায়ে হ্যান্ডক্যাপ পরা রাহুলকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামি রাহুলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।