• বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শ্রীপুরে কৃষক দল নেতা মাসুদ রানার বিরুদ্ধে সাংবাদিক হেনস্থার অভিযোগ গাজীপুর মহানগরের ৩২ নংওয়ার্ডে ‘ছোট মিন্টু’র দাপট! ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অভিযোগে আতঙ্কে এলাকাবাসী আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বাসনে নিষিদ্ধ সংগঠনের মশাল মিছিল, দুই ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেপ্তার ইসরাইল হাওলাদার অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে আনন্দ মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণ করে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নারী শ্রমিক ধর্ষণ মামলায় শ্রমিক ফেডারেশন নেতা গ্রেপ্তার বাসন থানার বিশেষ অভিযানে নারী ও শিশু অপহরণ, ডাকাতি প্রস্তুতি ও ধর্ষণ মামলার ৫ আসামি গ্রেপ্তার স্থানীয় নির্বাচনে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেই কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী ৯ বছরেও কাটেনি সংকট, ঝুলে আছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

গাজীপুর মহানগরের ৩২ নংওয়ার্ডে ‘ছোট মিন্টু’র দাপট! ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অভিযোগে আতঙ্কে এলাকাবাসী

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি / ৬২ Time View
Update : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি :

 

গাজীপুর মহানগরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ইশ্বড্ডা মল্লিকবাড়ী, ডেগেরচালা ও আশপাশের এলাকায় মিন্টু খান ওরফে ‘ছোট মিন্টু’কে ঘিরে উঠেছে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এবং ভয়ংকর কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও লালন-পালনের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই তার নাম এলাকায় আলোচিত। তার কথিত দাপটে সাধারণ মানুষ অনেকটা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মিন্টু খান ওরফে ছোট মিন্টু আমান খানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার নানা অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম করা এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় ছোট মিন্টুর একটি প্রভাবশালী সহযোগীচক্র রয়েছে। এই চক্রের সদস্যদের নিয়েই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সী কিশোরদের একটি অংশকে ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।
ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ সাধারণ মানুষ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে অনেক স্থানীয় বাসিন্দাই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, প্রকাশ্যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পরবর্তীতে প্রতিশোধ বা হয়রানির আশঙ্কা থাকে।
একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ। আমরা কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না। এলাকায় কে কী করছে, অনেক কিছুই দেখি। কিন্তু ভয় ও নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পাই না। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে, তাহলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে পারেন না।
‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
অভিযোগ রয়েছে, ছোট মিন্টুর আশপাশে একদল উঠতি বয়সী তরুণ-কিশোর ঘোরাফেরা করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কিশোরকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, কিশোরদের একটি অংশকে যদি এখনই অপরাধের পথ থেকে ফেরানো না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক নয়, তার সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ছোট মিন্টুর নামও উঠে আসছে বলে দাবি করেছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করা আইনগতভাবে সমীচীন নয়।
স্থানীয়রা বলছেন, এলাকায় মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তরুণ প্রজন্ম। তাই মাদকের বিরুদ্ধে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন।
সাংবাদিককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগও আলোচনায়
স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায়ও ছোট মিন্টুর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা থাকলেও এসব মামলার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট থানার নথি ও আদালতের রেকর্ডের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গুরুতর অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে দীর্ঘদিন এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন?
তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে।
পুলিশ বলছে, ‘ছোট মিন্টু’র বিষয়ে তথ্য পেয়েছে
এ বিষয়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মিন্টু খানের বিষয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন তথ্য পেয়েছে। তার কথিত গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মিন্টু খানকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের এই বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, শুধু সহযোগীদের আটক নয়—অভিযোগের মূল বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফোন বন্ধ, বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে মিন্টু খানের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি চায় এলাকাবাসী
৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দাবি, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নজরদারি প্রয়োজন।
তারা বলেন, শুধু কোনো একটি ঘটনায় অভিযান চালিয়ে থেমে গেলে চলবে না। মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে, কারা অর্থ বা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে—সেটিও খুঁজে বের করা জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবশালী বা কোনো পক্ষের চাপের তোয়াক্কা না করে অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রক্ষা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
‘আমরা নিরাপদে থাকতে চাই’—এলাকাবাসীর আকুতি
স্থানীয়দের একটাই দাবি—এলাকায় তারা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চান। মাদক, ছিনতাই কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের কারণে কোনো পরিবার যেন আতঙ্কে না থাকে।
তাদের ভাষায়, “আমরা কারও শত্রু নই। আমরা শুধু চাই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকুক। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।”
এখন দেখার বিষয়, মিন্টু খান ওরফে ছোট মিন্টুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত কতদূর এগোয় এবং পুলিশ কবে তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।


More News Of This Category
bdit.com.bd