• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
গাজীপুরে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এইচএসসিতে পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেরা গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে পোশাককর্মীর মৃত্যু, আহত ২ যাত্রাবাড়ীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু, গুলি ছুড়েছে কে—তদন্ত চলছে গাজীপুরে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ গাজীপুরে বাসন থানা পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন মামলার ৬ আসামি গ্রেপ্তার গাজীপুরে ১৬ বোতল বিদেশি মদসহ একজন গ্রেপ্তার গাজীপুরে ১৫ পিস ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিও আটক কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের হামলায় বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির খান আহত

গাজীপুরে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

মোঃ ফরিদ হোসেন, গাজীপুর  / ৪৩ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

মোঃ ফরিদ হোসেন, গাজীপুর 

আটক, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ; সম্পদের উৎস এবং কথিত পুলিশি পরিচয়ের বৈধতা তদন্তের দাবি সচেতন মহলের:
গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে আটক, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রফিক ওরফে ‘ফর্মা রফিক’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আটকের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় নগরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির কথিত পুলিশি পরিচয়, অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং তাঁর অর্জিত সম্পদের উৎস নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ দিন আগে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন নিয়ামত সড়ক এলাকা থেকে সাজু নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে একজন বিকাশ ব্যবসায়ীকে আটক করে তাঁর কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া সদর থানার সালনা এলাকা থেকে সিপন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা এবং পূর্ব চন্দনা এলাকার মুতালেবের দোকান থেকে দুই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এসব অর্থ আদায় করা হয়েছে।
তবে এসব অর্থ লেনদেনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিক ওরফে ‘ফর্মা রফিক’ বিভিন্ন এলাকায় নিজেকে ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেন। কখনো মাদক, কখনো অনলাইন জুয়া কিংবা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে লোকজনকে আটকের ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মাদক পুনরায় বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিবি বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
জমি, বাড়ি, গাড়ি ও ফলের আড়ত নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগের পাশাপাশি রফিকের কথিত সম্পদ অর্জনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, গাজীপুর মহানগরীর বগুড়া বাইপাস এলাকায় একটি বড় ফলের আড়তসহ বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি, গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ অর্জনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তাঁরা জানতে চান, এসব সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, সম্পদের প্রকৃত মালিকানা কার নামে এবং আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না। অভিযোগকারীদের মতে, এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে সম্পদের মালিকানা বা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো যাচাইকৃত নথি বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন সামনে আসেনি।
প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
এ ঘটনায় গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার, ডিবি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা।
তাঁদের দাবি, রফিক ওরফে ‘ফর্মা রফিক’-এর প্রকৃত পরিচয়, তিনি আদৌ কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কি না, ডিবি পুলিশের পদ-পদবি ব্যবহারের বৈধতা, কথিত অর্থ লেনদেন এবং তাঁর অর্জিত সম্পদের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত করা হোক।
পাশাপাশি যাঁরা অর্থ আদায়ের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করছেন, তাঁদের বক্তব্য গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি
সচেতন মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বেআইনিভাবে আটক কিংবা অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাত ছাড়াই তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি যে-ই হোন না কেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য বা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এখন এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা হোক।


More News Of This Category
bdit.com.bd