গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে অপহরণের পর প্রায় এক মাস ধরে আটকে রাখা তিন বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মানব পাচার মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চাঁদপুরের কচুয়া থানার কাঠাদিয়া এলাকার সিরাজের ছেলে শহিদ (৪৬) ও তার স্ত্রী শিল্পি আক্তার (৪৫)। তারা পূবাইল থানাধীন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দরাবাদ দিলারটেক এলাকায় মিছির আলীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হায়দরাবাদ দিলারটেক মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় পূবাইল থানা পুলিশ। এ সময় শহিদের ভাড়া বাসা থেকে তিন বছর বয়সী শিশু বায়েজিদকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে শহিদ ও তার স্ত্রী শিল্পি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. জয় ও তার স্ত্রী জাহানারা আক্তার মুন্নী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। প্রায় দুই মাস আগে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জয় ও তার স্ত্রী কারাগারে থাকায় তাদের তিন বছর বয়সী ছেলে বায়েজিদকে প্রতিবেশীরা দেখাশোনা করতেন।
গত ১৬ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আমতলী এলাকার ভাড়াবাসার সামনে থেকে শিশু বায়েজিদ নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়িওয়ালার নাতি মো. রাব্বির মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, শিশুটিকে পূবাইলের হায়দরাবাদ দিলারটেক এলাকায় শহিদের ভাড়া বাসায় আটকে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি সুমি আরজু (৩৫) শিশুটির অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে তাকে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে শিশুটিকে নিপীড়ন ও ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে শহিদ ও শিল্পি আক্তারের কাছে আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মানব পাচার আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।