গাজীপুরের কাশিমপুরে গভীর রাতে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে ভাড়াটিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলাম (৪৯)।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত আনুমানিক ২টার দিকে তৌহিদ উদ্দিন সোহাগ নামে এক ব্যক্তি শহিদুল ইসলামের নির্মাণাধীন বাড়ির জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে শিল-পাটা দিয়ে বাড়ির গেটের তালা ভেঙে ফেলা হয়। এরপর কাশিমপুর থানার এএসআই সেকেন্দার আলীসহ দুই পুলিশ সদস্য এবং আরও দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি গেট দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শহিদুল ইসলামের দাবি, বাড়ির লোকজন ঘুম থেকে উঠে তাদের পরিচয় ও সেখানে আসার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা জানান, ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া কামালকে গ্রেপ্তার করতে তারা সেখানে এসেছেন।
শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, এ সময় এক অজ্ঞাত পুলিশ সদস্য তার ছেলের কক্ষের ওয়ার্ডরোবের ড্রয়ার থেকে ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া স্বর্ণের বালা, ৮ আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের টিকলি এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যান। অভিযোগে এসব স্বর্ণালংকারের মূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মালামাল নিয়ে যেতে বাধা দিলে এএসআই সেকেন্দার আলী শহিদুল ইসলামকে থাপ্পড় মেরে ফেলে দেন। এ সময় তার ছেলে ও স্ত্রী এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ভাড়াটিয়া কামালকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগে উল্লেখ করা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন শহিদুল ইসলাম।
শহিদুল ইসলাম বলেন, “পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের যে আস্থা ও আত্মবিশ্বাস ছিল, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তা নষ্ট হচ্ছে। তারা আমার বাড়ির ভাড়াটিয়া কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে এসেছিল। কিন্তু তাকে ধরতে গিয়ে আমার কক্ষে প্রবেশ করে ওয়ার্ডরোব থেকে বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যায়।”
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাশিমপুর থানার এএসআই সেকেন্দার আলী। তিনি বলেন, পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া মডেল থানার এসআই লুৎফরসহ পুলিশের একটি দল আসামি গ্রেপ্তারের জন্য ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। তিনি শুধু তাদের আইনি সহযোগিতা করেছেন। চোরাই মালামাল উদ্ধারের জন্য ওই পুলিশ দল বাড়িটি তল্লাশি করেছে। তবে অভিযানের সময় স্বর্ণালংকার বা নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এএসআই সেকেন্দার আলী আরও বলেন, “অভিযোগে যে লুটপাটের কথা বলা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।