নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:
গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা এলাকায় পুলিশের ‘সোর্স’ পরিচয় দিয়ে দেদারসে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে রিপন ওরফে বগা রিপন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। তার এই কথিত সোর্স পরিচয়ের আড়ালে মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অপরাধের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বগা রিপনের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাসন থানার বিভিন্ন এলাকায় বগা রিপন নিজেকে ওয়ান-ইলেভেন (তৎকালীন জরুরি অবস্থা) বা বর্তমান সময়ের প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘ঘনিষ্ঠ সোর্স’ হিসেবে দাবি করে। এই পরিচয় ভাঙিয়ে সে মূলত নিচের অপকর্মগুলো নির্বিঘ্নে চালিয়ে আসছে:
চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইল: ফুটপাত, লেগুনা স্ট্যান্ড, অটোরিকশা এবং স্থানীয় ছোটখাটো ব্যবসায়ী ও নির্মাণাধীন ভবনের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা (চাঁদা) আদায় করে এই রিপন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই ‘বাসন থানা দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়।
মাদক ও জুয়ার সিন্ডিকেট: এলাকার মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত বখরা নেওয়া এবং জুয়ার বোর্ড চালানো বা আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নিরীহ যুবকদের পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক ঘটনা এলাকায় লোকমুখে প্রচলিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসন এলাকার একাধিক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জানান, “বগা রিপন পুলিশের কেউ না হয়েও পুলিশের চেয়েও বেশি দাপট দেখায়। আমরা দিনমজুর, ব্যবসা করে খাই। ওর দাবি করা টাকা না দিলেই থানায় খবর দিয়ে পুলিশ এনে হেনস্তা করার ভয় দেখায়। আমরা এই বগা রিপনের অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই।”
এই বিষয়ে বাসন থানার কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বাংলাদেশ পুলিশে ‘সোর্স’ পরিচয়ে কারও চাঁদাবাজি বা অপরাধ করার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধী যেই হোক, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বগা রিপনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এই কথিত সোর্সের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। দ্রুত বগা রিপন ওরফে বগা রিপনকে গ্রেপ্তার করে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।