মোঃ সাজজাকুল ইসলাম রাজ্জাক
দক্ষিণ সানলায় অবস্থিত এবিসি চক্ষু হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি যেন নিত্যদিনের চিত্র। হাসপাতালটির জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং সমন্বয়হীনতার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রবেশের পর থেকেই শুরু হয় এক রুম থেকে অন্য রুমে ছোটাছুটি। রিসিপশন থেকে স্লিপ নেওয়া, এরপর ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা, আবার ল্যাব টেস্টের জন্য অন্য ভবন বা ফ্লোরে দৌড়াদৌড়ি—এভাবেই কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বয়স্ক রোগী ও শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকরা এই অব্যবস্থাপনায় হাঁপিয়ে উঠছেন। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা মো. আব্দুল করিম বলেন, “সকাল ৮টায় এসেছি, অথচ এখন দুপুর ১২টা বাজে। এখনো ডাক্তারের দেখা পাইনি। একবার বলছে এই রুমে যান, তো আরেকবার বলছে ওই রুমে। সেবা নিতে এসে বরং উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়ছি।”
আরেক ভুক্তভোগী গৃহিণী সালমা বেগম জানান, “হাসপাতালের সিস্টেমটি অত্যন্ত জটিল। একেক কাজের জন্য একেক জায়গায় যেতে হচ্ছে। একজন বৃদ্ধ মানুষ একা একা এতদূর হাঁটাহাঁটি করবেন কীভাবে? এখানে রোগীদের আরাম তো দূরের কথা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে তাদের কষ্ট দেওয়া হচ্ছে।” সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত জনবল থাকলেও কাজের সঠিক সমন্বয় নেই। ডিজিটাল পদ্ধতির কথা বলা হলেও অধিকাংশ কার্যক্রম এখনো ম্যানুয়ালি সম্পন্ন করতে হচ্ছে। রোগীদের সিরিয়াল দেওয়ার ক্ষেত্রেও সঠিক ব্যবস্থাপনা নেই, যার ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সবাইকে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রোগীর চাপ বেশি থাকায় মাঝে মাঝে একটু দেরি হয়ে যায়। তবে আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি সুশৃঙ্খল করতে।” তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত জনবল বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। রোগীদের কষ্ট লাঘবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা