কক্সবাজারের মহেশখালীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পাহাড়ের ভেতরে পরিচালিত একটি দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান মিলেছে। এ সময় বিপুল অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশসহ রহমত উল্লাহ ওরফে বাশি নামে এক অস্ত্র কারিগরকে আটক করেছে পুলিশ। তবে অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি বাজার ও পশ্চিম পাড়ার পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, রাতে মিঠাছড়ি বাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজন একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে রাখার খবর পেয়ে মহেশখালী থানার এসআই মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। আটক ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি পশ্চিম পাড়ার পাহাড়ের ভেতরে ভাড়া নেওয়া একটি ঘরে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম মজুদের তথ্য দেন।
পরে মহেশখালী থানার ওসি মো. আব্দুস সুলতানের নেতৃত্বে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও আটক রহমত উল্লাহর দেখানো মতে ভাড়া বাসার একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে বিপুল অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- বন্দুকের কাঠের বাট ৪টি, ট্রিগার ম্যাকানিজম ৪টি, অস্ত্র তৈরির ব্যারেলের অংশ ৬টি, ট্রিগার ৮টি, রিসিভার কভার সদৃশ অংশ ৫টি, বিভিন্ন আকারের স্প্রিং ১৫টি, অন্যান্য ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ ১৫টি, লোহার হাতুড়ি ২টি, লোহা ধারানোর লেদ মেশিন ১টি, বাটাল ২টি, লোহার পাইপ ১টি, ড্রিল মেশিন ১টি, স্ক্রু ড্রাইভার ৩টি, করাত ১টি, হাতে চালিত ড্রিল মেশিন ১টি, পরিমাপ স্কেল ১টি, ইলেকট্রিক উড প্ল্যানার ১টি, লোহা কাটার গ্রাইন্ডার ১টি, চাইনিজ কুড়াল ১টি, বড় টর্চ লাইট ১টি, ইলেকট্রিক হেকসো ১টি ও লোহা কাটার হ্যান্ড করাত ১টি।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে তার সহযোগী হিসেবে নমি উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তারা পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আটক রহমত উল্লাহসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় শনিবার (২২ আগস্ট) মামলা করা হয়েছে।
মহেশখালী থানার ওসি মো. আব্দুস সুলতান বলেন, আমাদের কাছে এ ধরনের আরও তথ্য রয়েছে। ধাপে ধাপে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।