গাজীপুর মহানগরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং একটি নাম্বার প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানা পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে জিএমপির সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. বেলায়েত হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার কাজিরচর গ্রামের খোকনের ছেলে তানজিম আহমেদ সোহেল (৩০) এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদর থানার নীলেরপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. বাবু (৩০)।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদর থানাধীন পাজুলিয়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান। অভিযান চলাকালে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড তাজা পিস্তলের গুলি এবং একটি নাম্বার প্লেটবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ অবৈধভাবে বহন করা হচ্ছিল এবং এগুলো বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা ছিল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলি আলামত হিসেবে জব্দ করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “গাজীপুর মহানগরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার এবং অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জিএমপি নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস, এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মহানগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্ট তামিল এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এসব অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই অস্ত্র উদ্ধারকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে জিএমপি।
স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের এমন অভিযানের প্রশংসা করে বলেছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হবে।