• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

পৌনে ৫ ঘণ্টার সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ভৈরব রেলস্টেশন, হাজার যাত্রীর দুর্ভোগ

ডেস্ক রিপোর্ট / ২৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :

 

 

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশন এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পুরনো বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতের এই ঘটনায় প্রায় পৌনে ৫ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেটসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলাচলকারী একাধিক আন্তনগর ট্রেন আটকে পড়ে এবং কয়েক হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ চলে গভীর রাত ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। পরে র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথপুর ও পঞ্চবটি এলাকার কিছু যুবকের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার জেরেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমে ভৈরব রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে তা দ্রুত লাঠিসোঁটা ও ইট-পাথর নিক্ষেপে রূপ নেয়। মুহূর্তেই স্টেশন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষই রেললাইনের পাথর তুলে একে অপরের দিকে ছোড়ে। এতে স্টেশনের ভেতরে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন।

সংঘর্ষের সময় রেলস্টেশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, রেলওয়ে থানা ও প্ল্যাটফর্মের ভেতরের একাধিক দোকানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কন্ট্রোল রুমের দরজা ও জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া রেলওয়ে থানার একটি গাড়ি ও ভবনের বিভিন্ন অংশেও হামলার ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়। প্ল্যাটফর্মের অন্তত কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

সচিবালয়ে আগুন গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ: রিজভী

আহতদের মধ্যে রয়েছেন রেলওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ, আরএনবি সদস্যসহ সাধারণ মানুষ। গুরুতর আহতদের মধ্যে একজন কনস্টেবলকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার একটি পা ভেঙে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

সংঘর্ষের কারণে রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ভৈরব রেলস্টেশন দিয়ে কোনো ট্রেন চলাচল করতে পারেনি। এতে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে সৃষ্টি হয় মারাত্মক অচলাবস্থা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, পরিস্থিতির কারণে একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ সময় আটকে ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-নোয়াখালী, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে-ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস আশুগঞ্জে, পারাবত এক্সপ্রেস তালশহরে, এগারসিন্ধুর এক্সপ্রেস দৌলতকান্দিতে, চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস নরসিংদীতে এবং একটি কনটেইনার ট্রেন মেথিকান্দায়। দীর্ঘ সময় ট্রেন বন্ধ থাকায় যাত্রীরা প্রচণ্ড গরম ও ভিড়ের মধ্যে দুর্ভোগে পড়েন।

অচলাবস্থার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন বিদেশগামী যাত্রীরা। তাদের ফ্লাইট ধরার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় একদল তরুণ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন। তারা আশুগঞ্জে আটকে থাকা মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রীদের সড়কপথে ভৈরব এনে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এতে কিছু যাত্রী সময়মতো বিমান ধরতে সক্ষম হন বলে জানা গেছে।

সচিবালয়ে আগুন গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ: রিজভী

ঘটনার সময় ট্রেনে আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জানান, দীর্ঘ সময় ট্রেন কোথায় এবং কখন ছাড়বে-সে বিষয়ে কোনো তথ্য না থাকায় অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে।

এক যাত্রী বলেন, সাড়ে চার ঘণ্টার বেশি সময় ট্রেন থেমে ছিল। প্রচণ্ড গরম ও অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনেকেই শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম কষ্টে ছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালায়। রাত দেড়টার দিকে তারা পুরো স্টেশন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। অভিযান চলাকালে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ভৈরব রেলস্টেশনের মাস্টার জানান, সংঘর্ষের কারণে স্টেশন এলাকায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। কেবল কন্ট্রোল রুমের গ্লাস ভাঙতেই প্রায় ২৬ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনায় প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।


More News Of This Category
bdit.com.bd