গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) নবনিযুক্ত প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) শওকত হোসেন সরকারের নিজ বাসভবনে তাকে স্বাগত জানানো হয়। এসময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সচিব (উপ-সচিব) মো. আমিন আল পারভেজ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্চল ৮ এর মনোয়ার হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম হারুনুর রশীদ, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা এস.এম গোলাম কিবরিয়া, নির্বাহী প্রকৌশলী লেহাজ উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান, টঙ্গী অঞ্চল ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাইদুল ইসলাম, উপ সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আমজাদ হোসেনসহ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং জনসেবার মান আরও বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রেখে তিনি নবনিযুক্ত প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। উল্লেখ্যঃ ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় গাজীপুর সিটি করপোরেশন। ৩২৯ দশমিক ৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই সিটি কর্পোরেশনে রয়েছে ৫৭ টি ওয়ার্ড। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন-১ শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টা জানানো হয়েছে। শওকত হোসেন সরকার একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ২০০৩ সাল থেকে সিটি কর্পোরেশন গঠনের আগ পর্যন্ত কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর তিনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক, সহ-সাংগঠনিক ও সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে। বর্তমানে ৩ বছর যাবৎ তিনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দায়িত্ব পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে অনেককেই বলতে শোনা যাচ্ছে দীর্ঘদিন পর সিটি কর্পোরেশন আমলাতন্ত্র থেকে মুক্ত হচ্ছেন। যেহেতু তিনি একজন প্রতিনিধি ছিলেন, সেহেতু সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন করতে পারবেন। দলীয় একাধিক নেতা-কর্মীর মতে, বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন পরিচালনা করা, এলাকাভিত্তিক সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা এবং নগরবাসীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণেই তাঁকে প্রশাসক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, যানজট নিরসন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘এই দায়িত্ব আমার জন্য বড় সম্মান, একই সঙ্গে বড় দায়িত্ব। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব। উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই। নগরকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার কাছে দোয়া চাই-আমি যেন গাজীপুর সিটির মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারি। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চলমান প্রকল্পগুলোতে গতি আসবে এবং নাগরিক সেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন অনুভূত হবে।