কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হয়।
বৃহস্পতিবার ( ৮ জানুয়ারি ) সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৪ নং ওয়ার্ড কালিপাড়া, নেগিপাড়ার নামায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কৃষি জমি। এসব জমিতে অনেকেই চাষাবাদ করছেন। আবার অনেকের জমি পতিত পড়ে আছে। পতিত পড়ে থাকা জমিগুলোতে রয়েছে নিচু ও গভীর খাদ। যার ফলে ওই জমিতে কোন ধরনের চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই তাদের জমিতে পালনশাক, সরিষা, লালশাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো ও মুলাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। কেউ কেউ ধান চাষাবাদ করেছে। এসব সবজি ক্ষেতের মাঝে মাঝে রয়েছে বিশাল খাদ।এসব খাদে নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমি। এলাকাবাসী জানায়, কালিপাড়া নিশিপাড়া বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এক সময় নিয়মিত চাষাবাদ হতো। অসাধু ব্যবসায়ী রিপন মল্লিক, লুৎফর ও আমজাদের সহযোগিতায় এসব জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে কৃষি জমি কমে এসেছে। ফলে চাষাবাদ কমছে। বেশি টাকার লোভে অনেকেই কৃষি জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। অনেকে আবার বাধ্য হয়ে ওই জমির পাশে থাকা জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন। কোন ধরনের নিয়মনীতি না মেনে গত কয়েক বছর ধরেই এসব কৃষি জমি থেকে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাটি কেটে বিক্রি করছে ।চলতি বছরে অটোব্রিকস ও ইটভাটায় মাটির জোগান দিতে ওইসব এলাকার কৃষি জমির মাটি বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে অনেক জমির মাটি কেটে নেওয়ায় বড় বড় খাদ তৈরি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ওইসব এলাকাগুলো থেকে এক সময় কৃষি জমি বিলিন হয়ে যাবে। এসব কৃষি জমি রক্ষায় এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসনসহ সব মহলের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন নতুন করে আর কোন কৃষি জমি নষ্ট না হয়। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই গাজীপুর ১৪ ওয়ার্ড বাসন এলাকায় অবৈধভাবে কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে কৃষি জমিতে বড় বড় খাদ তৈরি হয়েছে। কমে যাচ্ছে কৃষি জমি ও নানা ধরনের ফসল ও সবজি আবাদ। কৃষি জমি রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা থাকলেও প্রশাসন কোনো হস্তক্ষেপ করছেন না। এবছরও এসব কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার পায়তারা করছে কিছু মাটি ব্যবসায়ী। প্রশাসন চাইলে এসব কৃষি জমি রক্ষা করা সম্ভব। এ ব্যাপারে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মশিউর রহমান বলেন, কৃষি জমি থেকে অনুমোদন ছাড়া গভীর করে মাটি কাটার কোনো নিয়ম নেই। তবে যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।