সংবিধান ‘লঙ্ঘন’ করে গণভোট আয়োজনের অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সরকারের প্রতি অনাস্থা দিতে এবং দেশকে ‘অচল হওয়া থেকে রক্ষা করতে’ জনগণকে ‘না’তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধনে যেটা (সংস্কার প্রস্তাব) এনেছে, তাতে করে দেশ অচল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমাদের দেশে ওনারা স্বৈরাচার বন্ধ করার নামে সংবিধানে যে সংশোধন করেছেন, সেখানে যিনি প্রধান নির্বাহী বা প্রধানমন্ত্রী তাকে কোনো রকম ক্ষমতাই দেওয়া হয় নাই। তার হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।” চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতের পর দেশে যাতে আর কর্তৃত্ববাদী শাসন ফিরতে না পারে সেজন্য রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সংবিধান, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কারের প্রস্তাব এনে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা কমানোর কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অর্থাৎ সংস্কার প্রশ্নে জনগণের রায় নিতে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে, যা ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যিনি পাবেন, তাকে ক্ষমতা দিতে হবে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিগত মহাজোট সরকারের মন্ত্রী জিএম কাদের বলেন, “ক্ষমতা যদি না দেন সে কোনোদিন দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।“ যারা প্রধানমন্ত্রী হবেন মনে করছেন বা স্বপ্ন দেখছেন তাদেরকে আমি হুঁশিয়ার করে দিতে চাই। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এই সংবিধান সংশোধন যে এক কথায়, এটা বেআইনি সংবিধান। এটা অবাস্তব এবং সত্যিকার কথা বলতে এটা বাস্তবায়ন হলে দেশ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে।” সংবিধান সংশোধন হলে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে দাবি করে তিনি বলেন, “দেশে কোনো রকম কোনো স্থিতিশীলতা থাকবে না। একটি সরকার তিন/চার/পাঁচ দিনের মধ্যেই সরকার পরিবর্তন হবে। কোনো আইন সঠিকভাবে পাস করতে পারবে না। এইভাবে কোনো দেশ চলতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি একটা লোককে দায়িত্ব দিবেন, তাকে ক্ষমতা দিতে হবে। আপনি সম্পূর্ণ ক্ষমতা বাদ দেবেন, সেটা হতে পারবে না।” গণভোটকে ‘সম্পূর্ণভাবে সংবিধানপরিপন্থি’ বলেও দাবি করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “এটা (গণভোট) সংবিধান বিরুদ্ধ এবং ওনারা (উপদেষ্টা) শপথ ভঙ্গ করছেন এবং এটাতে সাধারণভাবে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দেশ অচল হয়ে যাবে।” জিএম কাদের বলেন, “দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এবং আইনের শাসনের স্বার্থে আমরা বিশ্বাস করি যে এই গণভোটকে আমাদের সকলকে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।“ না ভোট দেওয়া উচিত এবং এই গণভোট প্রতিষ্ঠিত না হোক সেটাই আমরা চাই।” বর্তমান সরকারই জুলাইয়ের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দাবি করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “জুলাই আন্দোলনের প্রথম থেকে জাতীয় পার্টি সক্রিয় সমর্থন দিয়ে গেলেও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তারা আমাদের স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিচ্ছে। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি তারাই আজ জুলাই শহীদের রক্ত মাংস বিক্রি করে খাচ্ছে।” জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ও জাতীয় পার্টির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে দলটি। জাতীয় পার্টির ১৯৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেন, “‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ঠিক নাই প্রমাণ করার জন্য হলেও জাতীয় পার্টি নির্বাচনি মাঠে থাকবে।” সংবাদ সন্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, শেরিফা কাদের, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, এমরান হোসেন মিয়া, আলমগীর শিকদার লোটন, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, ইকবাল হোসেন তাপস, মাইনুর রাব্বি রুম্মন চৌধুরী