• মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১২ অপরাহ্ন

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শতাধিক ম্যানহোল খোলা, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

টুটুল তালুকদার, গাজীপুর : / ১৩৫ Time View
Update : শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫

টুটুল তালুকদার, গাজীপুর :

একটু বৃষ্টি হলেই টঙ্গী জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়। মহাসড়কে দেখা যায় নৌকা চালানোর দৃশ্য। এখানে বৃষ্টি মানেই জলাবদ্ধতা, যানজট আর নাগরিক দুর্ভোগ। বৃষ্টির সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ডবাজার থেকে টঙ্গী পর্যন্ত শতাধিক খোলা ড্রেন ও ম্যানহোল ভয়ংকর বিপদের ফাঁদ হয়ে ওঠে।মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় রাতে ঘটে বিপদ। সম্প্রতি ম্যানহোলে পড়ে একজন নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হলেও ঢাকনা দেওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। সরেজমিন দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যায়। নিচে কী আছে, সেটা বোঝার উপায় থাকে না। তখন যদি ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকে, সেটা মুহূর্তেই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হতে পারে। এই ফাঁদে পড়ে ইতিমধ্যে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে নি। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পথচারীদের চলাফেরা করতে হচ্ছে এ সব সড়কে। সম্প্রতি প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। মহাসড়ক অবরোধ হলেও সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেই। স্থানীয়রা জানান, টঙ্গীর বিভিন্ন সড়ক, বিশেষ করে ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক শিল্প এলাকার সড়কের দুই পাশে অন্তত ২৫টি ড্রেন ও ম্যানহোল দীর্ঘদিন ধরে খোলা বা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। এসব ম্যানহোলের চারপাশে নেই কোনো সতর্কতা চিহ্ন। এমনকি রাতে আলো না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বোর্ডবাজার থেকে টঙ্গী হোসেন মার্কেট এলাকা পর্যন্ত অন্তত শতাধিক ড্রেন ও ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। এসবে কোথাও দুই-একটি চিকন বাঁশের খুঁটি দেওয়া হয়েছে। কিছু ম্যানহোলে রয়েছে লাল কাপড়। কিছু ম্যানহোলের ওপর দিয়ে বৃষ্টির পানি থাকায় বোঝাই যায় না, পানির নিচে রয়েছে ঢাকনা খোলা ম্যানহোল। আর এ সব টপকে হেঁটে যাচ্ছে পথচারীরা। সারি সারি ভাবে হেঁটে যাচ্ছে পোশাক শ্রমিকরা। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। হচ্ছে প্রাণহানিও। টঙ্গী ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে রয়েছে খোলা দুটি ম্যানহোল। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পোশাক শ্রমিক সেলিম শেখ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এই ম্যানহোলে জ্যোতি নামে এক নারী পড়েছিলেন। ৩৭ ঘণ্টার পর তার লাশ উদ্ধার হয়েছে।’পোশাক শ্রমিক আবুল হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যার পর যখন অন্ধকার নেমে আসে, তখন এই খোলা ম্যানহোলগুলো হয়ে ওঠে আরো ভয়ংকর। এ ছাড়া স্কুল থেকে ফেরা শিশু, বাইক আরোহী কিংবা বৃদ্ধ মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন সচিব আল আমীন পারভেজ দৈনিক সময়ের ডাক বলেন, ‘আমরা এ সবের দায়িত্ব এড়াতে পারি না। আমরা গাজীপুর মহানগরীর সব খোলা ম্যানহোলের হিসাব নিচ্ছি। এ সব খোলা ম্যানহোল ঢাকনা দিয়ে বন্ধ করে দেব। আমাদেরকে ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা এ সব নিয়ে কাজ শুরু করেছি।


More News Of This Category
bdit.com.bd