গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে ভাসমান দোকান বসিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শামীম খান ওরফে ‘ক্যাসেট শামীম’ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর সংযোগ বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে এই চাঁদাবাজি চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করে ফুটপাতে দোকান বসানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর সংযোগ বেইলি ব্রিজের পাশে মহাসড়কের ফুটপাত দখল করে প্রায় ২৪০ থেকে ২৫০টি দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানের মধ্যে কাপড়, জুতা, নার্সারি, কাঁচাবাজার, মাছ ও শুঁটকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভাসমান দোকান রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দোকানভেদে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। স্থানীয়দের হিসাবে, শুধু বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। সে হিসাবে মাসে এই চাঁদার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় টঙ্গীবাজারের প্রবেশমুখে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে রোববার সাপ্তাহিক হাটের দিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং তুরাগ নদের ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজে পথচারী ও যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে এটলাস হোন্ডা, বাটা, টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস), সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা দুর্ভোগে পড়ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শামীম খান ওরফে ‘ক্যাসেট শামীম’ বলেন, বিএনপি নেতা ইসমাইল সিকদার বসু, মামুন পাঠান ও লিটু মিয়াসহ কয়েকজন কোটি টাকা খরচ করে টঙ্গীবাজার ইজারা নিয়েছেন। সিটি করপোরেশন সীমানা চিহ্নিত করে না দেওয়ায় ইজারার টাকা তুলতে তুরাগ তীরের পাশে অস্থায়ী কিছু দোকান বসানো হয়েছে। সেখানে দোকানপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
টঙ্গীবাজারের ইজারাদার ও বৃহত্তর টঙ্গী থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসমাইল সিকদার বসু বলেন, তারা প্রায় ৫ কোটি টাকায় সিটি করপোরেশন থেকে টঙ্গীবাজার ইজারা নিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করলে এসব দোকান সরিয়ে নেওয়া হবে।
তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী জোনের আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ইজারার আওতায় মহাসড়কের ফুটপাত অন্তর্ভুক্ত নয়। ফুটপাত দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের টঙ্গী উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন খান জানান, অবৈধ দোকান সরানোর জন্য একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পুলিশকে মাসোহারা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। তবে উচ্ছেদের কিছুদিন পর আবারও সেখানে দোকান বসানো হয়।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।