স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উত্তর খাইলকুর এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবেশীদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপয়ান্তর না পেয়ে ঘরের চালের ওপর দিয়ে মই বেয়ে চলাচল করছে ১০টি পরিবারের বয়োবৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সি মানুষ।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উত্তর খাইলকুর এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবেশীদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপয়ান্তর না পেয়ে ঘরের চালের ওপর দিয়ে মই বেয়ে চলাচল করছে ১০টি পরিবারের বয়োবৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সি মানুষ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ দিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী তমা আক্তার গাছা থানা ও সিটি কর্পোরেশনের অভিযোগ দিয়েছেন। রাস্তা খুলে দেওয়ার দাবিতে সোমবার দুপুরে মানববন্ধনও করেছেন এলাকাবাসী। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, কয়েক বছর আগে ৪ শতাংশ জমি সাফ কবলা দলিলে কিনে নেন তমা আক্তারের স্বামী সাইফুল ইসলাম। বাড়িটি কেনার সময় উত্তর দিক দিয়ে ৪৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩ ফুট প্রস্থ রাস্তাসহ কেনা হয়। এই রাস্তা দিয়ে যুগ যুগ ধরে মানুষ চলাচল করে আসছেন তারা। তবে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন প্রতিবেশী নিলু চান খান। রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় ১০টি পরিবার চলাচল করতে পারছে না। তারা চালের ওপর দিয়ে মই বেয়ে দুই দিন ধরে চলাচল করছে। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগী তমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী সৌদি প্রবাসী, আমি সন্তানসহ ভাড়াটিয়াদের নিয়ে বসবাস করি। আমার প্রতিবেশী প্রথম থেকেই আমাদের সঙ্গে শত্রুতা করে রাস্তা নিয়ে ঝামেলা করে। নতুন করে দু-দিন আগে ইটের গাঁথুনি দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। পরবর্তীতে আমি ন্যায় সংগতভাবে বাঁধা দিতে গেলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তারা। এখন এটির কোনো সমাধান হচ্ছে না, আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না, মই বেয়ে বের হলে আবার ঢুকতে পারছি না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নিলু চাঁন খান বলেন,‘ তিনি যখন জমি কেনেন ওই জমিতে রাস্তা উল্লেখ ছিল। তবে অন্য জায়গা দিয়ে সে বেশি দখল করে ফেলেছে। এখন এই জায়গাটি আমার, এ জন্য আমি বন্ধ করে দিয়েছি।’
গাজীপুর মহানগর পুলিশের গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। রাস্তাটি যেন খুলে দেয় সেটি আমরা বলে দিয়ে এসেছি।’