গাজীপুর মহানগরের বাসন থানায় এক ব্যবসায়ীকে ফোনে হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে কৃষক দলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় পরে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেটের অপটিক্যাল কেব্ল কেটে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন গত মঙ্গলবার বাসন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে কৃষক দলের কর্মী তরিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম গাজীপুর মহানগরের ইটাহাটা এলাকার মো. জহুর উদ্দিনের ছেলে। তিনি কৃষক দলের কর্মী এবং বাসন থানা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাজ্জাদ হোসেন ‘অ্যাডভান্স নেটওয়ার্ক সিস্টেম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। বাসন থানা এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির ইন্টারনেট ব্যবসার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্স রয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন তাঁর ইন্টারনেট ব্যবসায় বিভিন্নভাবে বাধা দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩১ আগস্ট রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তরিকুল ইসলাম মুঠোফোনে সাজ্জাদ হোসেনকে কল করে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে টানা তাঁর প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট সংযোগের তার কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ওই ফোনালাপের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অডিওতে তরিকুলকে বলতে শোনা যায়, ‘তারেক রহমানের খাম্বায় আওয়ামী লীগের কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। তার ব্যবসার লাইসেন্স থাকুক আর না থাকুক।’
এর পরদিন ১ সেপ্টেম্বর রাতে তেঁতুলতলা এলাকায় এক গ্রাহকের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসন থানার বিভিন্ন এলাকায় অ্যাডভান্স নেটওয়ার্ক সিস্টেমের অপটিক্যাল কেব্ল কাটা অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেনের দাবি, কেব্ল কেটে দেওয়ায় তাঁর প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছি। এরপরও চাঁদা দাবি করে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চাঁদা না দেওয়ার পর আমার প্রতিষ্ঠানের কেব্ল কেটে দেওয়া হয়েছে। এখন আমি ও আমার কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’
অভিযোগের বিষয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর নামে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন মানুষের কাছে বিচার দেওয়ার কারণে তিনি মুঠোফোনে ওই কথাগুলো বলেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, তিনি ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কৃষক দলের সঙ্গে যুক্ত এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন।
এদিকে বাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শিবলু মিয়া বলেন, ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়া এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট কেব্ল কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।