নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক তরুণী।
গত ১০ জুন (২০২৬) বাসন থানায় এই অভিযোগপত্রটি জমা দেন (ভিকটিম) (২০)। অভিযুক্ত যুবকের নাম মোঃ সিয়াম হোসেন (২১)। সে বাসন থানার ইতাহাটা কলাবাগান এলাকার আলী নামক এক ব্যক্তির ছেলে।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে (ভিকটিমের) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। একই এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে সিয়াম হোসেনের সাথে তাঁর মোবাইল ফোনে কথোপকথন শুরু হয়। একপর্যায়ে সিয়াম তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সিয়ামের প্ররোচনায় ও বিয়ের আশ্বাসে (ভিকটিম) ও তাঁর ৩ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে রেখে আনুমানিক ৩/৪ মাস আগে স্বামীকে তালাক দেন এবং বাবার বাড়িতে এসে বসবাস শুরু করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, এরপর থেকে সিয়াম তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যেতেন এবং তাঁদের বাড়িতেও যাতায়াত করতেন। মাঝে মধ্যে বাসন থানাধীন ‘রংধনু’ নামক পার্কে গিয়ে রুম ভাড়া নিয়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন সিয়াম।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ০৬ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮:০০ ঘটিকার সময় সিয়াম তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে (ভিকটিম) কে ফোন করে ডাকেন এবং তাঁদের বাড়ির পাশে একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে (ভিকটিমের) ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে (ভিকটিম) বিয়ের কথা বললে সিয়াম তাঁর সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি ও বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখান।
ঘটনার পর নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী তরুণী তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের লোকজনের সাথে আলোচনা করে গত ১০ জুন বাসন থানায় এসে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রের শেষে ভুক্তভোগী তরুণী বিষয়টি তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।