• বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

গাজীপুরে ডিবির এস আই মাসুদ ঘুষ বানিজ্যের শীর্ষে

ডেক্স রিপোর্ট / ১৭৪৭ Time View
Update : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ডেক্স রিপোর্ট :

 

দেশের প্রতিটি জেলায় পুলিশ সুপার ও মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনারের অধীনে ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রাখে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি)। সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের কারণে সাধারণ জনগণের কাছে ডিবি দীর্ঘদিন ধরেই আস্থাভাজন। তবে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি উত্তর বিভাগে কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগে পুরো ডিবির সুনাম প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তথ্য সংগ্রহে জানা যায়, গত এপ্রিল ২০২৫ সালে গাজীপুর সদর থানাধীন পশ্চিম ভূরুলিয়া এলাকায় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি মো. ইকবালের বাড়িতে অভিযান চালান এসআই মাসুদ। ইকবালকে না পেয়ে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা জব্দ করে নিয়ে আসেন তিনি। পরে ইকবালের স্ত্রী কণার কাছ থেকে ইকবালের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ লক্ষ টাকা না দিলে গ্রেফতারের হুমকি দেন। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ইকবাল এসআই মাসুদকে পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হন।অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। চলতি বছরের ৩ ডিসেম্বর পুনরায় ইকবালকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে যান এসআই মাসুদ। ইকবালকে না পেয়ে তার স্ত্রী কণাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাৎক্ষণিক দুই লক্ষ টাকা দাবি করেন। কণা অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেন। এছাড়াও নলজানি এলাকার একাধিক মাদক ব্যবসায়ী—কৃষ্ণা, রাণী, নূরজাহান ও নাসিমাসহ অনেকের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে তাদের মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে এসআই মাসুদের বিরুদ্ধে। মাঝে মধ্যে দু’একজনকে আটক করলেও দায়সারা প্রসিকিউশন মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। গত ১২ নভেম্বর নলজানি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাণী, নূরজাহান ও নাসিমার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হলেও অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ৬০ হাজার, ৫০ হাজার ও ১ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে নাসিমার শাশুড়ি টাকা দিতে না পারায় তার মেয়েকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। ২১ নভেম্বর পুনরায় নাসিমার বাড়িতে অভিযানের সময় ৪০ পুটলি গাঁজা উদ্ধার হলেও ভিডিও ধারণের পর তাকে গ্রেফতার না করে ৪০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পুলিশ কমিশনার অশোক পাল বলেন, “যদি কেউ অন্যায় করে থাকে, তদন্ত সাপেক্ষে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।” একজন বিজ্ঞ আইনজীবী বলেন, “কোনো পুলিশ কর্মকর্তা অপরাধের আলামত গোপন রেখে আসামিকে লঘু মামলায় আদালতে পাঠালে বা ছেড়ে দিলে তা অসদাচরণের শামিল। এ ধরনের ঘটনায় বিভাগীয় সর্বোচ্চ শাস্তি ও তদন্তহীন স্থানে বদলি অত্যন্ত জরুরি।” সাধারণ জনগণ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, এসআই মাসুদের মতো কর্মকাণ্ড ডিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। অবিলম্বে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।


More News Of This Category
bdit.com.bd