• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৭৩৯ শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই, ক্ষোভ গাজীপুরে বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ৯ প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের, দুপুরে সংবাদ সম্মেলন শারদীয় দুর্গোৎসব -২০২৬ এ পূর্বের চেয়ে বেশি সরকারি অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে —-এ কে এম ফজলুল হক মিলন, এমপি গাজীপুরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার পূবাইলে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত খবরের প্রতিবাদ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পেলেন সুদীপ বসাক গাজীপুরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস গাজীপুরে বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ৫

গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৭৩৯ শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই, ক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট / ২২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :

 

গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বিতীয় দফায় ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে এ-সংক্রান্ত নোটিশ টানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ছাঁটাইয়ের তালিকা দেখতে কারখানার সামনে ভিড় করেন শ্রমিকরা। চাকরি হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অনেক শ্রমিক। এ ঘটনায় তাঁদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা দেখা গেছে।

ছাঁটাই হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলো লে-অফে রয়েছে। এরপর কয়েক দফায় লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল থাকার কারণে উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী ২০ অক্টোবর থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হবে। তাঁদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কারখানার সুইং সেকশনের অপারেটর ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করে আসছি। এখন চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেটাই চিন্তার বিষয়।’

প্রায় ১৯ বছর ধরে কারখানাটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন আবেদা বেগম। হঠাৎ চাকরি হারানোর খবরে কারখানার গেটের সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আবেদা বেগম বলেন, ‘এত বছর চাকরি করে শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে বিদায় নিতে হচ্ছে।’

এদিকে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান এ ছাঁটাইয়ের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘৫ বার লে-অফের পর কেয়া নিট কম্পোজিটের ৭৩৯ শ্রমিক এক নোটিশে ছাঁটাই—এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে বকেয়া ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কারখানায় নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে যাঁদের চাকরি বহাল রয়েছে, তাঁরা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সুবিধা পাবেন।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৭৩৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হারিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীরা। তাঁদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকনেতারা।


More News Of This Category
bdit.com.bd