• বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন

রুহুল কবির রিজভী হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

ডেস্ক রিপোর্ট / ১৯ Time View
Update : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :

 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তার শূন্য পদে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থিতা সামনে আসার পর থেকেই বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে রুহুল কবির রিজভীর নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রথম ধাপে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পরে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে তাকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। দলের অতীত সাংগঠনিক রীতিতেও এমন নজির রয়েছে।

মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং মহাসচিব পদে পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, আগামী ২০-২১ আগস্টের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলের চেয়ারম্যানই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এখানে ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা অনিচ্ছার বিষয় নেই।

রিজভীর এমন বক্তব্যের পর বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে তার নাম নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে দীর্ঘদিনের মহাসচিবের দায়িত্ব ছাড়তে হবে তাকে। বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম প্রায় চূড়ান্ত। ফলে তার রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং একই সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার বিষয়টি এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় রুহুল কবির রিজভীর অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে দেখা হয় তৃণমূলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগকে। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ রেখে আসছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে রিজভীর ভূমিকা দীর্ঘদিনের। এ কারণে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার সরাসরি অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করে, দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের সময়ে দলকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রাখতে রিজভীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে বিএনপির কর্মসূচি ও দলীয় অবস্থান তুলে ধরতে তিনি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও বক্তব্য দিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচি নিয়ে সক্রিয় থাকা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার কারণে বিএনপির ভেতরে রিজভীর একটি আলাদা সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন দলটির নেতারা।

বিএনপির অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা নেতাদের পরবর্তী সময়ে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার নজির রয়েছে। রুহুল কবির রিজভীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে প্রথমে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এরপর জাতীয় কাউন্সিলে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তার নাম পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে বিবেচনায় আসতে পারে।

তবে কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামতও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। শেষ পর্যন্ত দলীয় কাঠামোর পরিবর্তন কীভাবে হবে, তা চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত ও কাউন্সিলের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। পরে ২০১৬ সালে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি দলের পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হন। এরপর টানা প্রায় এক দশক ধরে তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে। দীর্ঘ সময় মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা উঠলেও তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও অভিজ্ঞতার কারণে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে তিনি বহাল ছিলেন।

তবে চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুতে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। সেই কাউন্সিলে তিনি মহাসচিব পদে থাকছেন না, এমন ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল।

এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দলীয় প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদও ছাড়তে হবে তাকে।

মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য বিদায়ের পর বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে রুহুল কবির রিজভীর সামনে বড় দায়িত্ব আসতে পারে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তাকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন দলের অনেকে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে তৃণমূলের সঙ্গে রিজভীর নিয়মিত যোগাযোগ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয়তা এবং দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

তবে পুরো বিষয়টি এখনো দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য দায়িত্ব পরিবর্তন এবং বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে নতুন মুখ আসার মধ্য দিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দলটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।


More News Of This Category
bdit.com.bd