বর্ষা শেষে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই গাজীপুরে ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করেছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। নতুন রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনেক হাসপাতালে শয্যার সংকট তৈরি হওয়ায় চিকিৎসা দিতে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে আসছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেকের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, তরুণ ও বয়স্কদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষ রয়েছেন।
গাজীপুরের হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যাতেও চাপ বেড়েছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত শয্যার বাইরে অতিরিক্ত রোগী সামলাতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হয়। তাই বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ আশপাশের এলাকায় কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে দিনে ও রাতে মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এদিকে জাতীয় পর্যায়েও ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে দেশে ৪২ হাজার ৫৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু এক দিনেই ১ হাজার ৫৫৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। ফলে গাজীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
সচেতনতার বার্তা:
জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাড়ির আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান—সব পর্যায়েই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।