
নিজস্ব প্রতিবেদক :
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইটাহাটা–কলাবাগান আঞ্চলিক সড়কের দীর্ঘদিনের নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও নির্মাণকাজে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগে সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা রাস্তা, খোঁড়াখুঁড়ি ও বড় বড় গর্তের কারণে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীবাহী যানবাহনকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইটাহাটা, কলাবাগান, মজলিশপুর, কামারবাসুলিয়া এবং বারবৈকা এলাকার মানুষের প্রধান যোগাযোগের এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত ও কাদা জমে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, ফলে হাঁটাচলাও কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। সীমিতসংখ্যক অটোরিকশা চলাচল করলেও প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী কবির হোসেন বলেন, “দুই বছরের বেশি সময় ধরে রাস্তার একই অবস্থা। অটোরিকশা চলতে পারে না, চললেও দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান।”
ব্যবসায়ী লিটন সিকদার বলেন, “কয়েকবার কাজ শুরু হলেও অজানা কারণে আবার বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টি হলে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
স্থানীয় শিক্ষক শহীদুল্লাহ মাস্টার জানান, এই সড়কের পাশে চারটি স্কুল ও সাত-আটটি মাদ্রাসা রয়েছে। বেহাল রাস্তার কারণে শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে বা বিকল্প পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুই-ই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাসন জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটির কাজ চলছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২০ ফুট প্রশস্ত এই সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি ৭৮ লাখ ১৫ হাজার ৯০৭ টাকা। তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের মাত্র ৩৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী দ্রুত নির্মাণকাজ সময়ের মধ্যে সড়কটির কাজ শেষ করতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।