• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন

আবারো পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের প্রস্তাব

ডেক্স রিপোর্ট / ৩২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া পোশাক পরিবর্তন চায় বাংলাদেশ পুলিশ। এবার গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙের মিশ্রণে নতুন পোশাকের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।  বাহিনীর মাঠপর্যায়ের সদস্যদের আপত্তি আর বাইরের সমালোচনার মুখে লোহা ও কফি রং থেকে সরে আসার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এতে  পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫ সংশোধনের এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, সর্বশেষ জারি করা এসআরও অনুযায়ী পুলিশের শার্ট গাঢ় ধূসর থেকে  লোহার রং এবং প্যান্ট গাঢ় নীল থেকে কফি রং করা হয়েছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেটি কার্যকর করতে গিয়ে বড় ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ সদস্যদের বড় অংশই নতুন রং নিয়ে অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বাহিনীর মনোবল ও ভাবমূর্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা আবার বসি।

এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েক দফা বৈঠক করেন। বিভিন্ন রঙের কাপড়ের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা শেষে নতুন রং চূড়ান্ত করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সব মেট্রোপলিটন পুলিশের শার্ট হবে হালকা অলিভ বা জলপাই রঙের। আর এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‍্যাব বাদে পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের শার্ট হবে গাঢ় নীল। তবে প্যান্টের রং সব ইউনিটের জন্য একই রাখা হয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান তার চিঠিতে লিখেছেন, মাঠপর্যায়ের মতামত ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ইউনিফর্মের রং পুনর্নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুন প্রস্তাবিত রং বাহিনীর ঐতিহ্য, আবহাওয়া ও দায়িত্বপালনের ধরনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রজ্ঞাপন জারির জন্য একটি খসড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সদর দপ্তর বলছে, ইউনিফর্ম সরবরাহ ধাপে ধাপে ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে হওয়ায় এই বদলে সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক সংশ্লেষ নেই।  তাই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাস্তবায়নের অনুরোধ করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “পুলিশের পোশাক শুধু কাপড় নয়, এটি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় বহন করে।  আগের রং নিয়ে মাঠ থেকে যে আপত্তি এসেছে, তা আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি। বাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা ও সদস্যদের আত্মবিশ্বাস দুটোই মাথায় রেখে নীল-জলপাই সমন্বয়ে যেতে চাইছি।”

২০২৪ সালের শেষ দিকে পুলিশের ইউনিফর্মের রং বদলে শার্ট  লোহার রং ও প্যান্ট  কফি রং করা হয়।  তখন যুক্তি ছিল, নতুন রং বেশি টেকসই ও দায়িত্বপালনে সহায়ক হবে। কিন্তু চালুর পরপরই কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পর্যায়ের সদস্যরা ক্ষোভ জানান।  তাদের অভিযোগ, গাঢ় কফি রঙের প্যান্ট দ্রুত ময়লা দেখায় এবং গরমে অস্বস্তি বাড়ায়।  লোহার রং এর শার্টকে অনেকেই বিবর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

একাধিক জেলা পুলিশ সুপার তখন সদর দপ্তরে চিঠি দিয়ে জানান, নতুন রঙের কারণে রাতে দায়িত্বপালনে সমস্যা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বলেন, আগের হালকা রঙের শার্ট দূর থেকে চোখে পড়ত, এখন তা হয় না। এসব অভিযোগ জমা হওয়ার পর জানুয়ারি থেকে রং পুনর্বিবেচনার কাজ শুরু হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, নতুন প্রস্তাবে মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য জলপাই রং রাখা হয়েছে নগর পরিবেশ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কথা ভেবে। আর জেলা ও অন্যান্য ইউনিটে গাঢ় নীল রাখা হচ্ছে, কারণ এটি বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের পরিচিত রং এবং রোদ-বৃষ্টিতে তুলনামূলক টেকসই।  প্যান্টের জন্য খাকি বেছে নেওয়ার কারণ, এটি ধুলা-ময়লা কম দেখায় এবং দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই।

তবে রং বদলের এই প্রক্রিয়া নিয়ে বাহিনীর ভেতরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। একজন সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, “বারবার রং বদলালে বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।  একটা স্থায়ী সিদ্ধান্তে আসা দরকার।  আগের নীল শার্টই ভালো ছিল।  জলপাই নীল সমন্বয় হলে অন্তত স্বস্তি ফিরবে।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রস্তাবটি এখন যাচাই-বাছাই পর্যায়ে আছে।  নিয়ম অনুযায়ী অর্থ বিভাগের অনাপত্তি লাগবে না, কারণ বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হচ্ছে না।  প্রজ্ঞাপন জারির পর পুরোনো ইউনিফর্মের মজুত শেষ হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে নতুন রং চালু হবে।  এতে দুই থেকে তিন বছর লাগতে পারে।

পুলিশের পোশাক নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন নয়।  ২০০৯ সালে র‍্যাবের জন্য কালো ইউনিফর্ম, ২০১৬ সালে ট্রাফিক পুলিশের জন্য সাদা শার্ট ও নীল প্যান্ট চালু হয়েছিল। প্রতিবারই রং নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।  এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না।  তবে পুলিশ সদর দপ্তর আশা করছে, নীল-জলপাই সমন্বয় সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং এটিই দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকবে।

আপাতত সবার  চোখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে।  প্রজ্ঞাপন কবে জারি হয়, তার ওপর নির্ভর করছে নতুন পোশাকের রং কি হবে।


More News Of This Category
bdit.com.bd