গাজীপুরে অনুষ্ঠিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে মানিকগঞ্জের একরাম স্মৃতি ফুটবল একাডেমিকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় বিকেএসপি। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে।
গাজীপুর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত টুর্নামেন্টের ফাইনালটি ছিল দর্শক-উপচে পড়া এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া উৎসব। শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে দুই দল সমানতালে লড়াই করে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে স্নায়ুচাপ সামলে জয় নিশ্চিত করে বিকেএসপির তরুণ ফুটবলাররা। জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন খেলোয়াড় ও সমর্থকরা।
ফাইনাল শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন প্রধান অতিথি গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। এর আগে ফাইনাল ম্যাচের উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার, পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দীন, বিএনপি নেতা মীর হালিমুজ্জান মনী, আহমদ আলী রুশদি এবং অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিসসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
ফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য বিকেএসপির গোলরক্ষক মাহিন ম্যাচসেরা (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান একরাম স্মৃতি ফুটবল একাডেমির সুমন।
আয়োজক কমিটি জানায়, চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপিকে ৩ লাখ টাকা, ট্রফি ও সনদ এবং রানার্সআপ একরাম স্মৃতি ফুটবল একাডেমিকে ২ লাখ টাকা, ট্রফি ও সনদ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সর্বোচ্চ গোলদাতা, সেরা গোলরক্ষকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
দেশের বিভিন্ন জেলার ১৬টি শক্তিশালী দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচেই ছিল দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি। ফাইনাল উপলক্ষে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামের গ্যালারির পাশাপাশি মাঠের চারপাশও দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
আয়োজকদের ভাষ্য, “মাদককে না বলি, খেলাধুলার মাধ্যমে সুন্দর জীবন গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। তরুণদের মাদক, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ, মানবিক ও ক্রীড়াবান্ধব সমাজ গড়ে তোলাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সফল আয়োজন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ এবং দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গাজীপুরের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের পথ আরও সুগম করবে।