নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন কালিয়াকৈর পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম সিকদার। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি বর্তমানে পৌর এলাকার সর্বস্তরের মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম সিকদার রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমানে
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়ও রয়েছে তাঁর সফলতার নজির। তিনি মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। স্থানীয়দের মতে, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে একজন জনবান্ধব জনপ্রতিনিধির পরিচয় দিয়েছেন।
কালিয়াকৈর পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নুরুল ইসলাম সিকদারকে অনেকেই যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
পৌর এলাকার বাসিন্দা মোঃ আব্দুল কাদের বলেন, “নুরুল ইসলাম সিকদার দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন। তিনি মানুষের বিপদ-আপদে পাশে থাকেন। দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে আমি মনে করি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, “কালিয়াকৈরের উন্নয়নে অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন। নুরুল ইসলাম সিকদারের সেই অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে পৌরসভার উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে।”
যুবক ভোটার রাকিব হোসেন বলেন, “তরুণদের কর্মসংস্থান, খেলাধুলা ও সামাজিক উন্নয়নে তিনি সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। তাই আমরা চাই যোগ্য নেতৃত্ব সামনে আসুক।”
নারী ভোটার রাশিদা বেগম বলেন, “তিনি সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। মেয়র হলে পৌরবাসী উপকৃত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নুরুল ইসলাম সিকদার। হামলা-মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও তাঁর প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কালিয়াকৈর পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততার বিচারে নুরুল ইসলাম সিকদার শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, “আমি সবসময় জনগণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। জীবনের দীর্ঘ সময় সাধারণ মানুষের সেবা এবং দলের জন্য কাজ করেছি। কালিয়াকৈরের মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং পৌরবাসী যদি আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভা গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব। উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জনগণের কল্যাণই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। আমি কালিয়াকৈর পৌরবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করছি।”