অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। নিউইয়র্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে আধিপত্য দেখায় লা রোজারা। তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অসাধারণ নৈপুণ্যে নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকে ম্যাচ।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই লামিন ইয়ামাল ও দানি ওলমোর দারুণ সমন্বয় থেকে স্পেন এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ চেষ্টায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে সপ্তম মিনিটে লিওনেল মেসির সম্ভাবনাময় আক্রমণ দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন।
প্রথমার্ধে বলের দখলে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্পেন। ৬৫ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে ওয়ারজাবাল, ফাবিয়ান রুইজ, বায়েনা ও ইয়ামাল আর্জেন্টিনার রক্ষণে নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করেন। তবে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের একের পর এক দুর্দান্ত সেভে গোলের দেখা পায়নি স্পেন। বিপরীতে আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি।
বিরতির পর কোচ লিওনেল স্কালোনি একাধিক পরিবর্তন আনলেও ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। স্পেন আক্রমণের গতি আরও বাড়ায়। ওয়ারজাবাল, ওলমো, বায়েনা ও পরে বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। শেষ মুহূর্তে ইয়ামালের ফ্রি-কিকও দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে নিকো উইলিয়ামস বল জালে জড়ালেও আক্রমণের শুরুতে ফাউলের কারণে ভিএআর যাচাই শেষে গোল বাতিল করা হয়। এরপরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ১০৬তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় তারা। পেদ্রো পোরোর আক্রমণ থেকে নিকো উইলিয়ামস বল বাড়িয়ে দিলে ফেরান তোরেস কাছ থেকে নিখুঁত শটে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর শেষ কয়েক মিনিটে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। তবে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত তোরেসের একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের চ্যাম্পিয়ন হলো ইউরোপের দলটি।