নিজস্ব প্রতিবেদক :
গাজীপুরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই যুবলীগের নেতা-কর্মীদের এক বিশাল মিছিল ও শোডাউনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই এক যুবলীগ নেতা প্রকাশ্য পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ‘মেরে ফেলা’ ‘ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো জেলা জুড়ে তীব্র সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২১ জুন দুপুরে গাজীপুরের মালেকের বাড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুবলীগের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি যখন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করছিল, তখন সেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একদল পুলিশ মোতায়েন ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলের একপর্যায়ে যুবলীগ নেতা পুলিশের দিকে আঙুল উঁচিয়ে অত্যন্ত উগ্র ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে শুরু করেন। তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমাদের দিকে চোখ তুলে তাকালে হাত কেটে নেওয়া হবে ও হত্যার হুমকি প্রদান করে পুলিশের ভূমিকা ও নীরবতা
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় ছিল, যখন এই প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, তখন সামনে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। কোনো কোনো প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিবর্তে পুলিশ সেখান থেকে কিছুটা পিছিয়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাব তৈরি করেছে।
এই বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে হুমকি দেওয়ার অধিকার কারও নেই। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কামরুল হাসান সরকার রাসেল এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের সামনে এই ধরনের হুমকির পর গাজীপুরের সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এভাবে হুঁশিয়ারি দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাত ও বিশৃঙ্খলার জন্ম দেবে।