• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

পাওয়া গেল ডলারের পরিচয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৪০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শুরুর প্রাক্কালে ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে হাজির হয়ে বারবার ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলেও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া কোনো তথ্য-প্রমাণে তার সম্পৃক্ততা মেলেনি।তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ডলার নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি পল্লবী এলাকারই বাসিন্দা।

যে বাড়িতে রামিসার ওপর নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, তার বাসস্থান ওই বাড়ি থেকে খুব বেশি দূরে নয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডলার অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। একই এলাকায় একটি রিকশা গ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা।

সেই সূত্রেই তাদের মধ্যে পরিচয় গড়ে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ডলার নিয়মিত ওই গ্যারেজে যাতায়াত করতেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ডলার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। ব্যক্তিগতভাবে সচ্ছল না হলেও তার পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল বলে পরিচিত। পরিবারের একটি নিজস্ব বাড়ি রয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, নেশার খরচ জোগাতেই তিনি অটোরিকশা চালান। পারিবারিক সূত্র বলছে, পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ডলার সবচেয়ে ছোট। তার বড় ভাই সেলিম রায়হান গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় দুই দশক ধরে পরিবারের সঙ্গে ডলারের তেমন কোনো যোগাযোগ নেই। মাদকাসক্তির কারণে পরিবারের সদস্যরাও তাকে এড়িয়ে চলেন।

তবে রামিসা হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (১ জুন) শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘ধর্ষণ করেছে ডলার, হত্যাও করেছে ডলার। আমি শুধু মরদেহ গুম করার চেষ্টা করেছি।’

একই সঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিশুটিকে এনে দেওয়ার বিনিময়ে তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তবে সোহেল রানার এসব বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেও তদন্তে তার সমর্থনে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, তদন্ত চলাকালে ডলার নামে একজন ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সাক্ষ্য-প্রমাণ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল তথ্য যাচাই করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার মতো কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতিরও কোনো প্রমাণ মেলেনি। এ কারণে অভিযোগপত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর সোহেল রানা নিজেই জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের শুরুতে কিংবা জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও তিনি বা তার স্ত্রী কখনো ডলারের নাম উল্লেখ করেননি। আদালতে এসে প্রথমবারের মতো এ ধরনের দাবি তোলায় তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এটি বিচারপ্রক্রিয়াকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


More News Of This Category
bdit.com.bd