বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে ঋণখেলাপিদের সঙ্গে কোনও সমঝোতা করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশ্ন রেখে বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড একা ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের ধারক, যার প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। জনতা ব্যাংকে বেক্সিমকো গ্রুপের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি রয়েছে। এস আলম ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে সরকার কতগুলি দেশে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং চলতি অর্থ-বছরে কী পরিমাণ অর্থ সম্পদ উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে?
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘‘বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে ঋণখেলাপিদের সঙ্গে সমঝোতা করার কোনও সুযোগ নেই। একটু পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বিএনপি যতবারই সরকারে এসেছে ফাইনান্সিয়াল ডিসিপ্লিন নিয়ে কোনও প্রশ্ন আসেনি। ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজি, ম্যাক্রো ইকোনমিক, স্টেবিলিটি নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। শেয়ার বাজার লুটপাট নিয়েও প্রশ্ন ওঠেনি। বিএনপির রাজনীতিতে পরিকল্পনায় সমঝোতার কোনও সুযোগ নেই।’’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘যারাই ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছে পালিয়ে গিয়েছে সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ জন্য আমরা বাইরে প্রফেশনাল ফার্মগুলোকে নিয়োগ করেছি। পাচার করা টাকা উদ্ধারের জন্য একদিকে জি টু জি ভিত্তিতে কাজ করছে সরকার, অন্যদিকে রিকভারি ফার্মগুলোও ব্যক্তিগতভাবে কাজ করছে। আশা করছি আগামী দিনে এসব টাকা উদ্ধার করতে পারব।’’
লিখিত জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ফৌজদারি কার্যক্রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মিচুয়াল লিগাল অ্যাসিসটেন্স ইন ক্রিমিনাল মেটারস অ্যাক্ট, ২০১২-এর আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশে অনুরোধ বা মিচুয়াল লিগাল অ্যাসিসটেন্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো। এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপের পাচার করা সম্পদ উদ্ধারের অংশ হিসেবে যৌথ তদন্তকারী দল (দুদক, সিআইডি, সিসিআই, শুল্ক ও গোয়েন্দা) কর্তৃক বাংলাদেশের আদালতে মামলা করা হয়েছে।
পাশাপাশি এস আলম গ্রুপের বিষয়ে ৪টি দেশে (বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস, জার্সি ও সিঙ্গাপুর) এবং বেক্সিমকো গ্রুপের বিষয়ে দুটি দেশে (যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) এমএলএআর পাঠানো হয়েছে। এ দুটি গ্রুপের পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে ফৌজদারী কার্যক্রমের পাশাপাশি দেওয়ানী পদ্ধতিও অনুসরণ করা হচ্ছে। ৪টি স্বনামধন্য বিদেশী আইনী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধানের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
অবৈধভাবে বিদেশে পাচার অর্থ উদ্ধার একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী আইনগত প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে এমএলএআরের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ, অপরাধলব্ধ অর্থ-সম্পদ সনাক্ত এবং দেশে বা বিদেশের আদালতে অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব। বাংলাদেশের মতো অন্য যেসব দেশ থেকে অবৈধভাবে সম্পদ পাচার হয়েছে তাদেরও একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আইনগত বা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতি বা আগামী অর্থ-বছরে এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপের কী পরিমাণ অর্থ সম্পদ উদ্ধার সম্ভব তা যথাযথভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে এবং এ জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।