• বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন

আইনশৃঙ্খলায় উন্নতির দাবি জিএমপির, ছয় মাসে ১,৮৫৪ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৩৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

গাজীপুর মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, ছিনতাই ও সন্ত্রাস দমন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের তৎপরতা প্রতিরোধে জিএমপি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন পুলিশ কমিশনার।

তিনি জানান, এ সময়ে জিএমপি এলাকায় মোট ১,৮৫৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা ২০টি, ডাকাতি ৭টি, ছিনতাই ২৮টি, সিঁধেল চুরি ১৬টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ১৭৬টি, মাদকের ৮১২টি, অস্ত্রের ৬০টি এবং অন্যান্য অপরাধে ৭৩৫টি মামলা রয়েছে।

একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে ৩,২১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৯৮৮ জন মাদক ব্যবসায়ী, ৯০১ জন মাদকসেবী, ৩৭৭ জন অস্ত্র মামলার আসামি, ৩৫৪ জন ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার আসামি, ৪৬ জন ছিনতাইকারী, ২৩ জন ডাকাত এবং অন্যান্য মামলার ৫২৮ জন আসামি রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ছয় মাসে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, ৫১ হাজার ৫৬০ পিস ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি ৩৬৫ গ্রাম গাঁজা, ১ কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথেডিন, ২৭৬ বোতল ফেন্সিডিল, ৪৬ লিটার দেশীয় মদ এবং ১৫১ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের তৎপরতা প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, সম্প্রতি মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। এসব ঘটনায় সদর, বাসন, কোনাবাড়ী, গাছা ও টঙ্গী পশ্চিম থানায় সাতটি মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের প্রকাশ্য বা গোপন কার্যক্রম, অর্থায়ন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণাও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টঙ্গীর পাগাড় বিসিক এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মোটরসাইকেল মহড়ার ঘটনায় একটি মামলা করে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শক্তি প্রদর্শন বা আধিপত্য বিস্তারের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি জানান, টঙ্গীসহ মহানগরের বিভিন্ন বস্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মাদক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শীর্ষ মাদক কারবারিদের সম্পদের অনুসন্ধান করেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ চেকপোস্ট, ব্লক রেইড, টহল ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ছিনতাইকারী পুনরায় একই অপরাধে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, দ্রুত উদ্ধার অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে হানি ট্র্যাপ ও অপহরণের ঘটনাও কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।

হত্যা মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৩ সালে ৯৪টি, ২০২৪ সালে ৯৬টি এবং ২০২৫ সালে ৮১টি হত্যা মামলা হলেও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে হত্যা মামলা হয়েছে ২০টি। এর মধ্যে মাত্র একটি বেওয়ারিশ লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে পুলিশ কমিশনার বলেন, মহানগরের কিশোর গ্যাং সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল সহযোগিতা এবং নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা আইনশৃঙ্খলা, মাদক, কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, হানি ট্র্যাপ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে পুলিশ কমিশনার সেগুলোর উত্তর দেন।


More News Of This Category
bdit.com.bd