রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ছে। এরই মধ্যে অপরাধ দমনে রাজধানীতে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে কি না—এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০০২ সালের আলোচিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর প্রসঙ্গও সামনে এসেছে।
২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, তৎকালীন বিডিআর, পুলিশ, আনসার ও বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। অভিযানটি ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে পরিচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও আদাবরসহ কয়েকটি এলাকায় অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিং এলাকায় জমি দখলের চেষ্টা, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চাঁদ উদ্যানের সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধী চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি তাদের সহযোগী বা পৃষ্ঠপোষকদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে বর্তমানে ২০০২ সালের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু বা ঘোষণা করা হয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমান তৎপরতাকে সরাসরি ‘ক্লিন হার্ট’-এর পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বর্তমান কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। ডিএমপির সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকাতেও তার নাম পুলিশ কমিশনার হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান তৎপরতার মধ্যেই বড় ধরনের অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা নির্দিষ্ট অভিযানের ঘোষণা এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।