• শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
গাজীপুরে দুটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বাসনে গড়ে উঠেছে একাধিক চোরাই তেলের দোকান, উঠছে নানা প্রশ্ন রাজধানীতে অপরাধ দমনে কঠোর অভিযানের প্রস্তুতি, আলোচনায় ‘ক্লিন হার্ট’ শ্রীপুরে অপহৃত তরুণ উদ্ধার, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় গ্রেপ্তার ৩ সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গাজীপুর মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহ: দুই ফিলিং স্টেশনকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে কোনাবাড়ীতে এক যুবক গ্রেপ্তার টঙ্গী পশ্চিমে বিশেষ অভিযানে অস্ত্র মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার বাসনে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ গাজীপুর জেলার পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ সুপার এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মহাসড়কের পাশে পুকুরে মিলল অস্ত্রের গুদাম

ডেক্স রিপোর্ট / ১৭৮ Time View
Update : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ডেক্স রিপোর্ট :

facebook sharing button
twitter sharing button
email sharing button
messenger sharing button
ফরিদপুরে একটি পুকুরের তলদেশ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। নির্বাচনের আগে সহিংসতা ও নাশকতার আশঙ্কার মধ্যে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশের একটি পুকুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এ দিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলা সদরের কানাইপুর আখ সেন্টার এলাকার একটি পুকুরে এই অভিযান চালানো হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সোহেল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র বা নাশকতাকারী গোষ্ঠীর ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব অস্ত্র গোপনে মজুত রাখা হয়েছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি বিদেশি পিস্তল ও ১৬ রাউন্ড গুলি, দুটি সিঙ্গেল ব্যারেল কাটা পাইপগান ও দুটি কার্তুজ, পাঁচটি চাইনিজ কুড়াল, ৬৫টি ছোট-বড় ছেনদা, আটটি বল্লম, ছয়টি চাকু, ১০১টি বর্ষার মাথা, একটি টেটা এবং পাঁচটি খালি কাঁচের মদের বোতল।

জানা গেছে,  সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কয়েক ঘণ্টা ধরে পুকুরের পানির নিচে ও মাটির তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্রের সন্ধান পায় যৌথ বাহিনী।  প্রথমে সেচযন্ত্র দিয়ে পুকুরের পানি সরানো হয়। পরে পানির স্তর বেশি থাকায় ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় জাল টেনে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে স্কচটেপে মোড়ানো বস্তা ও প্যাকেট উদ্ধার করা হলে সেখান থেকে অস্ত্রের ভাণ্ডার পাওয়া যায়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাজ।

এ ঘটনায় কাউকে আটক করা না হলেও কারা এসব অস্ত্র মজুত করেছিল, কী উদ্দেশ্যে এবং কতদিন ধরে পুকুরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ফরিদপুর সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর সোহেল আহমেদ বলেন, ‘নাশকতার উদ্দেশে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ করে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর সঙ্গে থানায় লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্রের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতা সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এত পরিমাণ অস্ত্র একা কোনো ব্যক্তির পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। এর পেছনে শক্ত নেটওয়ার্ক রয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশের পুকুরকে অস্ত্র লুকানোর স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া মোটেও কাকতালীয় নয়। প্রয়োজনে দ্রুত তুলে নেওয়া এবং সন্দেহ এড়াতে পানির নিচে রেখে দেওয়ার কৌশল—এটি প্রশিক্ষিত ও সংগঠিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দেয়।


More News Of This Category
bdit.com.bd