• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মোহাম্মদপুরে আইনজীবীর বাসা থেকে ১৩ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ পিচ্চি রাজার পলায়ন: নাওজোড় নয়, তাঁতীবাজার থেকে পালানোর তথ্য, গ্রেপ্তার ২ পুলিশ বাসনে মহাসড়কের পাশে চোরাই তেল কেনাবেচার অভিযোগ, মোরসালিনসহ কয়েকজনের নাম গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিককে মারধর করে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ গাজীপুরে হাসপাতাল থেকে চার বছরের শিশুকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, দুই ঘণ্টা পর উদ্ধার গাজীপুরে তৈরি পোশাক কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯ ইউনিট গাজীপুর বাসনে কুখ্যাত ৫ জন ছিনতাইকারী গ্রেফতার পূবাইলে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ৩ যুবক গ্রেপ্তার খুচরা বাজারে ২২০০-২৩০০ টাকা এলপিজি, চাপে সাধারণ ক্রেতা টঙ্গীতে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ নারী মাদককারবারী গ্রেফতার

পিচ্চি রাজার পলায়ন: নাওজোড় নয়, তাঁতীবাজার থেকে পালানোর তথ্য, গ্রেপ্তার ২ পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৮০ Time View
Update : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে ফেরার পথে পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা ওরফে বাদশার পলায়নের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গাজীপুরের বাইমাইল বা নাওজোড় হাইওয়ে থানার সামনে থেকে নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পিচ্চি রাজা পালিয়েছেন।

ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ব্যাপক অসংগতি ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা এবং আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রিজন ভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন। একই ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, কনস্টেবল মো. সাকিব ও কনস্টেবল শাকিল হোসেনকেও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় মামলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ জন আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরার জন্য প্রিজন ভ্যানে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর বন্দী রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা।

আদালতে হাজিরা শেষে আসামিদের নিয়ে প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের দিকে ফেরার সময় সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দাবি করেন, নাওজোড় বা বাইমাইল এলাকায় প্রিজন ভ্যান থামিয়ে পিচ্চি রাজাকে শৌচকর্মের জন্য নামানো হলে তিনি কৌশলে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে বাকি ২৯ আসামিকে কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়।

তবে পরবর্তী তদন্তে ওই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ কমিটির জিজ্ঞাসাবাদে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা পালানোর স্থান ও ঘটনার বিবরণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দেন।

পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান ও জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম বলেন, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁরা সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। আসামি কোথা থেকে পালিয়েছে, তা নিয়েও তাঁরা একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, যে স্থান থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটিও সঠিক নয় বলে তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার প্রকৃত স্থান এবং কীভাবে আসামি পালিয়ে গেলেন, তা জানতে তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রিজন ভ্যান থামানোর বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, কারাগার থেকে আদালত এবং আদালত থেকে কারাগারে ফেরার পথে সাধারণভাবে প্রিজন ভ্যান থামানোর সুযোগ নেই। বড় ধরনের বিপদ হলে নিকটবর্তী থানায় ভ্যান থামানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা যে স্থানে ভ্যান থামানোর কথা বলেছেন, সেখানে থামানোর প্রশ্নই ওঠে না।

তিনি আরও জানান, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত শেষে প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার তদন্ত করছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে পিচ্চি রাজা গাজীপুরের নাওজোড় এলাকা থেকে নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে দুই পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যসহ অন্যান্য বিষয় যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, ঘটনার পর প্রায় সাত দিন পার হলেও পিচ্চি রাজার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারে গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পিচ্চি রাজা ওরফে বাদশা ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের ব্লক-এ এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন থানায় মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত প্রায় ২৫টি মামলা রয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে প্রায় ২৫টি মামলার তথ্য রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৯ মে পিচ্চি রাজা তাঁর স্ত্রী ও শ্যালককে নিয়ে নেপাল থেকে দেশে ফেরার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন।

জিএমপির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গ্রেপ্তার দুই পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাঁদেরও শনাক্ত করা হবে।

পুলিশ বলছে, পলাতক পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাঁর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারও পরিকল্পিত সহায়তা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


More News Of This Category
bdit.com.bd