• বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গাজীপুর ভবানীপুরে সূর্যোদয় বয়েজ ক্লাব এর উদ্যোগে শহীদ জিয়া স্মৃতি রৌপ্যকাপ -২০২৬ শুভ উদ্বোধন গাজীপুরে নারী সাংবাদিকের ওপর হামলা, হাসপাতালে থাকাকালে বাসায় লুটপাটের অভিযোগ গাজীপুরে চাঁদা না পেয়ে পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি, গ্রেপ্তার ১ গাজীপুর বিআরটিতে দালাল বাদশার দৌরাত্ম্য, তদন্তের দাবি গাজীপুরে ৬ গ্যাস ফিলিং স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, রিয়াজ এন্ড কোংকে ২ কোটি টাকা জরিমানা গাজীপুরের বাসনে পুলিশের বিশেষ অভিযান, বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ৬ টঙ্গীতে ২০ মামলার আসামি মমেলাসহ দুই নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার টঙ্গীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুক্কুর আলী গ্রেপ্তার গাজীপুরে আন্তজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, পিকআপসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার শিল্পকলা একাডেমিতে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, মামলায় গ্রেপ্তার ৪

গাজীপুরে নারী সাংবাদিকের ওপর হামলা, হাসপাতালে থাকাকালে বাসায় লুটপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : / ৩৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

ঘটনার ১২ দিন পর মামলা নিল গাছা থানা, আসামিদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি

 

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার বসুরা গ্রামে নারী সাংবাদিক ফাতেমা আক্তার ও তাঁর ছোট ভাই-বোনের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। এ ঘটনায় দীর্ঘ ১২ দিন পর গাছা থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করেছে। মামলার নম্বর ২২/২০২৬।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে তাঁর বাড়িতে একাধিকবার তালা ভেঙে প্রবেশ করে মূল্যবান মালামাল, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি ও লুট করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা গ্রহণে বিলম্ব ও আপস-মীমাংসার চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত

ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তারের অভিযোগ, তাঁর বাড়ির উঠানের জমি বিক্রি ও পূর্বপুরুষের সম্পত্তির অংশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে প্রায় ছয় মাস আগে থেকে বিরোধের সূত্রপাত হয়। তাঁর ছোট ভাই গাফফারকে পূর্বপুরুষের প্রায় ১৪ বিঘা জমি উদ্ধার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় কয়েকজন জমি ব্যবসায়ী ও দালাল তাঁকে জমি বিক্রিতে উৎসাহিত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফাতেমার অভিযোগে শফিক, রিফাত, সবুজ, হানিফ, সেলিম ও মোস্তফা কামালসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, জমি বিক্রির প্রক্রিয়ায় তাঁর মালিকানাধীন জমির অংশ নিয়েও জটিলতা তৈরি করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ও ভাই-বোনদের মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা তৈরির জন্য খুঁটি পুঁতে দেওয়া হয়।

এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ফাতেমা। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টও দেন বলে জানান।

বাড়িতে চুরি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ

ফাতেমা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি কর্মস্থলে থাকাকালে তাঁর ঘর থেকে মূল্যবান কাগজপত্র ও কাপড়চোপড় সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং পানির ট্যাংক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কর্মস্থল থেকে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে ছোট ভাই গাফফারের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনাটি অস্বীকার করেন বলে দাবি ফাতেমার। পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে এ ঘটনার সঙ্গে গাফফার ও অন্য কয়েকজনের সম্পৃক্ততার কথা জানতে পারেন বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় ২৭ সেপ্টেম্বর গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ফাতেমা। তাঁর দাবি, পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় কিছু কাপড় এবং স্কুল-কলেজের মূল সনদপত্র উদ্ধার করা হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

বাড়িতে ফেরার সময় হামলার অভিযোগ

ফাতেমার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁকে পাঁচ দিন প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। পরে পুলিশ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আশ্বাসে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বেলা সোয়া ১২টার দিকে তিনি তাঁর সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। এ সময় তাঁর ছোট বোন উম্মেহানি ও ছোট ভাই আহাদও সঙ্গে ছিলেন।

বাড়ির দরজায় তালা ঝুলতে দেখে তা খোলার জন্য গাফফারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন বলে জানান ফাতেমা। তাঁর অভিযোগ, এরপর গাফফারসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা রামদা, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তিনি এবং তাঁর ভাই-বোন গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে এসআই নাজিম উদ্দিন ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত করেন বলে ফাতেমা জানিয়েছেন।

হাসপাতালে থাকাকালে তিন রাত লুটপাটের অভিযোগ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়িতে ফিরে ফাতেমা দেখতে পান, ঘরের বিভিন্ন মালামাল চুরি ও লুটপাট করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তিনি হাসপাতালে থাকার সুযোগে পরপর তিন রাতে বাড়ির তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়।

লুট হওয়া মালামালের মধ্যে স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, রান্নার তৈজসপত্র, ব্যাংকের চেকবই, জমির দলিল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, কাপড়চোপড় এবং বৈদ্যুতিক তার রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

এ ঘটনায় কারা জড়িত, কী পরিমাণ মালামাল খোয়া গেছে এবং সেগুলোর কোনো অংশ উদ্ধার হয়েছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

গ্রেপ্তার ও ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ

ফাতেমা আক্তারের দাবি, প্রাথমিক অভিযোগের পর পুলিশ তাঁর ছোট ভাই গাফফারকে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজিম উদ্দিন তাঁকে অন্য অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সত্যতা উদ্‌ঘাটনের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

তবে তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয় এবং গাফফারকে গ্রেপ্তারের অল্প সময়ের মধ্যে অন্য কয়েকজন থানায় গিয়ে আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দুপুরে গ্রেপ্তার হওয়া গাফফারকে একই দিন রাতেই ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন ফাতেমা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তার, মুক্তি এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

১২ দিন পর মামলা গ্রহণ

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, হামলা, চুরি ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে তাঁকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। বারবার আপস-মীমাংসার চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও তিনি অভিযোগের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান।

অবশেষে ঘটনার ১২ দিন পর গাছা থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করে। মামলার নম্বর ২২/২০২৬। ফাতেমার দাবি, প্রভাবশালী কয়েকজনের নাম বাদ দিয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মামলার এজাহার পর্যালোচনা ও পুলিশের বক্তব্য ছাড়া অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

পূর্ববিরোধের জেরেই হামলা, দাবি ফাতেমার

ফাতেমা আক্তারের দাবি, তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানবাধিকার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এবং এলাকায় অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে সরকারি সহায়তা পেতে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করেন। স্থানীয় বিভিন্ন অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আগে থেকেই কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিরোধ ছিল বলে জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে আত্মীয়ের জমি দখল নিয়ে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে জমি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন তাঁর ছোট ভাই গাফফারকে প্রভাবিত করে পারিবারিক জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করেই তাঁকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ফাতেমার অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত নথি, দলিল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।

সাংবাদিক সমাজের উদ্বেগ ও বিচার দাবি

ফাতেমা আক্তার তাঁর ওপর হামলা, বাড়িতে চুরি-লুটপাট এবং মামলা গ্রহণে বিলম্বের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, খোয়া যাওয়া মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর সহকর্মী সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


More News Of This Category
bdit.com.bd