
গাজীপুরের সাবেক পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান রাসেলের বিরুদ্ধে স্ত্রী ও সন্তানকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ১২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং পুলিশি পদমর্যাদা ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জে কর্মরত রয়েছেন বলে অভিযোগকারী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী পরিবারের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ওই নারী গাজীপুর পুলিশ হেডকোয়ার্টারে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটির স্মারক নম্বর এডিসি ক্রাইম (দক্ষিণ)/৪৯৮ বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মনিরুজ্জামান রাসেলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
স্ত্রী-সন্তানকে নির্যাতনের অভিযোগ
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী ও সন্তানকে মারধর করে আহত করেন এসআই মনিরুজ্জামান রাসেল। একাধিকবার স্ত্রীকে রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় থাকতে হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
পরিবারের অভিযোগ, যৌতুক হিসেবে ১২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। দাবিকৃত অর্থ দিতে না পারায় ওই নারীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সন্তান জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলেও দাবি করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সন্তানসহ স্ত্রীকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন পরিবারের সদস্যরা। এসব ঘটনায় নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওই নারী পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অভিযোগ জানান বলে তাঁদের বক্তব্য।
অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ ও প্রাণনাশের হুমকির দাবি
অভিযোগকারী পরিবারের আরও দাবি, পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অভিযোগ এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পর এসআই মনিরুজ্জামান রাসেল স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এসব ঘটনার কারণে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি অভিযোগকারী নারী ও তাঁর সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিভাগীয় মামলা ও আদালতের ওয়ারেন্টের দাবি
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানায় দায়িত্ব পালনকালে মনিরুজ্জামান রাসেলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। ঘুষ গ্রহণসংক্রান্ত অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের ওয়ারেন্ট জারির কথাও জানিয়েছেন অভিযোগকারী পক্ষ। এ-সংক্রান্ত স্মারক নম্বর ৩৬৬৬/২৬ বলে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় আদেশ, আদালতের নথি এবং ওয়ারেন্টের বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের
অভিযোগকারী পরিবারের পক্ষ থেকে আরও কিছু ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রামাণ্য নথি ছাড়া এসব বিষয়কে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
পরিবারের মূল দাবি, এসআই মনিরুজ্জামান রাসেলের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রত্যাহারে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং স্ত্রী ও সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।