
গাজীপুরের শ্রীপুরে সৌদি আরবে ভালো ভিসা, আকামা ও কাজ দেওয়ার কথা বলে এক তরুণকে বিদেশে পাঠিয়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন ও তার ভাগিনা এনায়েত উল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর মা মোছা. মিনারা খাতুন।
অভিযোগকারী ময়মনসিংহের পাগলা থানার সাধুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার ছেলে মো. আকরাম খানকে সৌদি আরবে পাঠানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আকামা ও কাজ না দেওয়ায় তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগপত্রে অভিযুক্তরা হলেন—মো. এনায়েত উল্লাহ (৩৫), পিতা তৈয়ব শেখ, কাওরাইদ; দেলোয়ার হোসেন (৪০), পিতা অজ্ঞাত, ছালা বাজার; হালিমা (৩০), স্বামী দেলোয়ার হোসেন, ছালা বাজার; মোছা. তানজিলা (২৫), পিতা শাহ আলম এবং বেবি আছমা (৫৫), স্বামী তৈয়ব, উভয়ের ঠিকানা কাওরাইদ, শ্রীপুর, গাজীপুর।
অভিযোগে মিনারা খাতুন দাবি করেন, এনায়েত উল্লাহ সৌদি আরবে প্রবাসী এবং তার আত্মীয়। তিনি তার ছেলে আকরাম খানকে সৌদি আরবে ভালো ভিসায় নিয়ে গিয়ে আকামা ও কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার পর এনায়েত উল্লাহর কথায় বিশ্বাস করে তিনি ৫ লাখ টাকা দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পর এনায়েত উল্লাহ আকরাম খানকে সৌদি আরবে নিয়ে যান এবং সেখানে দেলোয়ার হোসেনের কাছে তুলে দেন। কিন্তু সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভালো ভিসা, আকামা কিংবা কাজ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন মিনারা খাতুন।
তিনি আরও দাবি করেন, তার ছেলে বর্তমানে সৌদি আরবে চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে উল্টো হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিনারা খাতুন অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে ছেলের আকামা ও কাজের বিষয়ে জানতে চান। এ সময় অভিযুক্ত ৩ ও ৪ নম্বর ব্যক্তি তার সঙ্গে হুমকিমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মিনারা খাতুনের দাবি, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে তার কাছ থেকে নেওয়া ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে এনায়েত উল্লাহর মাধ্যমে সৌদি আরবে লোক পাঠিয়ে আকামা না দিয়ে আটকে রেখে টাকা-পয়সা নেওয়ার অভিযোগও তিনি করেছেন।
অভিযোগকারী জানান, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে সমাধানের চেষ্টা করায় থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঘটনার পক্ষে সাক্ষী ও প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
পরে গত ২১ আগস্ট ২০২৬ শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ৫ লাখ টাকা ফেরত এবং সৌদি আরবে থাকা ছেলে আকরামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান মিনারা খাতুন।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।