
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত আইইএ’র ‘ইলেকট্রিসিটি মিড-ইয়ার আপডেট ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলো এলএনজি আমদানির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় এসব দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে অতিরিক্ত ব্যয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের ওপর। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জ্বালানির ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রবণতাও কিছুটা কমেছে বলে পর্যবেক্ষণ করেছে আইইএ।
সংস্থাটি মনে করছে, চলতি বছরও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ বজায় থাকতে পারে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর অন্যতম হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ এলএনজি ও অপরিশোধিত জ্বালানি এই পথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রুটে পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পর এশিয়া ও ইউরোপের গ্যাসবাজারে মূল্য দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২২-২৩ সালের বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পর এবারই প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি দেশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি কিছু দেশে গ্যাসের পরিবর্তে আবারও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে।
আইইএ বলছে, বৈশ্বিকভাবে বিদ্যুতের চাহিদা আগামী কয়েক বছরেও শক্তিশালী থাকবে। শিল্প উৎপাদনের সম্প্রসারণ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বিস্তার এবং দ্রুত বাড়তে থাকা ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশ।
এ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বিশ্বে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়ে প্রায় ৩০ হাজার ৭০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টা হবে, যা ২০২৫ সালে ছিল ২৮ হাজার ৬০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টা।
আইইএ জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ কিছুটা কমেছে। তবে গ্যাসের উচ্চমূল্য এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এ কারণে এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পথে হাঁটছে।