গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভুয়া ফ্যাক্টরির ম্যানেজার পরিচয় ব্যবহার করে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে কাশিমপুর থানা আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুর রউফ খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে হাতিমারা এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিন খানের ছেলে আব্দুর রউফ খান গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (নং-০১/২০২৬) দায়ের করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, তার মালিকানাধীন ৪৮.৫০ শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠিত রুটেক্স কর্পোরেশন নামের একটি ফ্যাক্টরিতে অভিযুক্তরা ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ভাঙচুর, চুরি ও মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ মে ২০২৬ সকাল ৮টার দিকে সাতজন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর, টিনশেড ভবন ক্ষতিগ্রস্ত, গাছ কেটে ফেলা এবং নির্মাণসামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার আলমগীর হোসেনের কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও নিরাপত্তাকর্মী সুজন সিকদারকে মারধর করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।তবে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, মামলায় যে ফ্যাক্টরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটি আব্দুর রউফ খানের নিজস্ব নয়; বরং অন্য একজনের মালিকানাধীন এবং ভাড়াভিত্তিক পরিচালিত। এছাড়া মামলায় যে আলমগীর হোসেনকে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে কখনো চাকরি করেননি বলেও দাবি করা হয়েছে।আলমগীর হোসেন বলেন, "আমি কিছুদিন আগে আব্দুর রউফ খানের ছেলের কাছে চাকরির জন্য একটি সিভি জমা দিয়েছিলাম। সেই সিভি থেকে আমার নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে আমাকে এই মামলার ম্যানেজার বানানো হয়েছে। আমি ওই ফ্যাক্টরিতে কোনোদিন চাকরি করিনি।"চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি যেখানে চাকরি করি না, সেখানে আমার কাছে কীভাবে চাঁদা দাবি করা হবে? পুরো বিষয়টি মিথ্যা। যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশকেই আমি চিনি না।"এ ঘটনায় কাশিমপুর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের মামলা করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মামলাটি কাশিমপুর থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ বিষয়ে আব্দুর রউফ খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।