গাজীপুর বাসন ১৪ নং ওয়ার্ডে এ অবৈধভাবে প্রকাশ্যে ফসলি জমির মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল। চলছে ফসলী জমির মাটি কাটার উৎসব এবং কৃষি জমি পরিনত হচ্ছে ডোবায়। তাতে করে প্রতিনিয়ত ফসলের উৎপাদন কমছে, বেকার হচ্ছে কৃষক, পরিবেশ হচ্ছে দূষিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, লড়ি দিয়ে মাটি পরিবহনের কার্যক্রম এ অবস্থায় সাধারন জনগণ অসহায় জীবন যাপন করছে। মাটি পরিবহনে ভারী ট্রাক ও লড়ি ব্যবহারে সড়ক হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ। গাজীপুর জেলা প্রশাস ও এসিলেন্ডের উদ্যোগে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে ভেকু ও ড্রাম ট্রাক আটক এবং ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করলেও থামেনি ফসলি জমির মাটি কাটা।
বাসন ভূমি অফিস থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটারের মধ্যে চলছে এই মাটি কাটার ধুম। এর আগে দিনের বেলায় মাটি কাটলেও প্রশাসনের অভিযানের কারনে এখন কাটা হচ্ছে রাত ১০ টার পর হতে সারারাত ব্যাপী। প্রকাশ্যে অবৈধ ভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা দেখলে মনে হয় সরকার থেকে অনুমতি নিয়ে পুকুর খনন করছে। রিপন মল্লিক, লুৎফর,আমজাদ মন্ডল, রিপন মাস্টার, সহ আরো অনেকে এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাজীপুর ১৪ নং ওয়ার্ড বাসনে কালিপাড়া, নেগীপাড়া ও বাসন স্কুলের পশ্চিম পাশে নামায় র্দীঘদিন যাবত চলছে মাটি কাটার এ কর্মযজ্ঞ। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এর সাথে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানায়, ভূমিদস্যুরা জমির মাটি ভেকু দিয়ে ১০/১২ ফুট গভীর করে খাড়াভাবে কাটে, যাতে করে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে পার্শ্ববতী জমির মাটি ভেঙে পরে যায়।
সরকারি গেজেটে মাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাসকরণ ২০১৩ সালের ৫৯ নং আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কৃষি জমি হতে মাটি কাটা বা সংগ্রহ করে ইটের কাচাঁমাল হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তাহলে দুই বৎসরের কারাদন্ড বা ২ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আজিজুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, কৃষি জমির মাটি কাটার অপরাধে এ পর্যন্ত বেশ কিছু ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানের সময় ভেকু ও ড্রাম ট্রাকের ড্রাইভার পালিয়ে যাওয়ার কারনে গাড়ীর ব্যাটারী খুলে জব্দ করা হয়েছে। কৃষি জমির মাটি কাটার বন্ধে রাত দিন প্রশাসনের অভিযানে একাধিক টীম কাজ করছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি।